অনন্তঘুমে ম্যারাডোনা

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০২:৪৯ এএম

মৃত্যু সংবাদ শোনার পর থেকে সারা পৃথিবী শ্রদ্ধা-শোক-ভালোবাসায় অবনত হয়েছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতি। কোটি কোটি হৃদয়ের সেই শ্রদ্ধা-ভালোবাসা সঙ্গে নিয়েই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বুয়েনস আয়ার্সে মা-বাবার সমাধির পাশে সমাহিত হয়েছেন ফুটবল ঈশ্বর।

বুয়েনস আয়ার্সে রাষ্ট্রীয়ভাবে ম্যারাডোনার শেষকৃত্য আয়োজন করা হয়েছিল। শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় ছিলেন কেবল পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা মিলে মাত্র ২৪ জন। অপেক্ষায় থাকা লাখ লাখ ভক্ত শেষকৃত্যে অংশ নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হন। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস কাসা রোসাদা থেকে যখন সমাধিক্ষেত্র বেল্লা ভিস্তার দিকে যাত্রা করে ম্যারাডোনার কফিনবাহী গাড়ি, তখন ভক্তদের ভিড় সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘর্ষের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ম্যারাডোনাভক্তরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সংরক্ষিত সীমানার মধ্যে ঢুকে পড়েন। পুলিশের দিকে বোতল ও বেড়া তুলে ছুড়েও মারেন তারা। এমন ক্ষুব্ধ ডামাডোলের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আর্জেন্টিনার রাজধানী শহরের অদূরে বেল্লা ভিস্তা সমাধিস্থলে বাবা-মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয় ম্যারাডোনাকে। এই সময় সমাধিস্থলের বাইরেও অবস্থান নিয়েছিলেন লাখ লাখ ভক্ত।

সমাহিত করার আগে কাসা রোসাদার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে দিনভর ম্যারাডোনার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অসংখ্য ভক্ত। তবু অপেক্ষমাণ জনতার লাইন ফুরায়নি। বুয়েনস আয়ার্সে ম্যারাডোনার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বর্ণনা দিতে গিয়ে এক আর্জেন্টাইন সাংবাদিক লিখেছেন, ‘হাজার হাজার মানুষ সারা রাত ধরে প্রেসিডেন্টস প্রাসাদের সামনে ছিলেন। কেউ কেউ ম্যারাডোনার ছবি বুকে জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে রাস্তাতেই ঘুমিয়ে পড়েন। বছর পঁয়ষট্টির এক বৃদ্ধাকে দেখলাম পরম মমতায় ম্যারাডোনার ছবি মুছছেন। অনেকেই ফুল নিয়ে এসে ‘ঈশ্বরের’ বাড়ির দরজার সামনে রেখে দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকালে দেখলাম এক মধ্যবয়সী বোকা জুনিয়র্স সমর্থকের বুকে মাথা রেখে শিশুর মতো কাঁদছেন এক রিভার প্লেট সমর্থক। আর একজন বোকা জুনিয়র্স সমর্থক তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন! ম্যারাডোনার পক্ষেই সম্ভব এভাবে দুই যুযুধান দলকে মিলিয়ে দেওয়া। সকাল ৬টা থেকে দেখছি প্রেসিডেন্টের বাড়ির সামনে ম্যারাডোনাকে দেখতে মানুষের ঢল নেমেছে, সারা রাত দরজা খোলা থাকলেও সবাই শেষ দেখা দেখতে পারেননি।’

সবাই শেষ দেখাটুকু দেখতে না পারার কারণে বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়েন। যেটা সামাল দিতে বল প্রয়োগ করতে হয় আর্জেন্টাইন পুলিশকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত