গবেষণা প্রতিবেদন

দ. এশিয়ায় তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ বাংলাদেশে বেশি

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০২:৩০ এএম

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এখনো বাংলাদেশে তামাক কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপ সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)। গতকাল শনিবার প্রকাশিত সংস্থা দুটির ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক : এফসিটিসি আর্টিকেল ৫.৩ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, বাংলাদেশ ২০২০’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে আইন সংশোধন করে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ বন্ধের সুপারিশ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক কর্মসূচি প্রধান মো. হাসান শাহরিয়ারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গবেষণায় প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী বাংলাদেশে আর্টিকেল ৫.৩ বাস্তবায়নের কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে সেটি সন্তোষজনক নয়। ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচকে’ এ বছরে বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর ৬৮। আগের বছর এই স্কোর ছিল ৭৭। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছুটা এগোলেও এখনো তামাক কোম্পানির শক্তিশালী হস্তক্ষেপ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোরই সবচেয়ে বেশি। গবেষণার তথ্য বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতে তামাক কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপ সূচকের স্কোর ৬১, পাকিস্তানে ৫০, মালদ্বীপে ৪৮ ও শ্রীলঙ্কায় ৪৪। ৪৩ স্কোর নিয়ে এই তালিকার সবচেয়ে নিচে আছে নেপাল। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপালে সরকারের ওপর তামাক কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপ সবচেয়ে কম।

ওয়েবিনারে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, তামাক অপরিহার্য পণ্যÑ তবে শুধু মৃত্যুর জন্য, জীবনের জন্য নয়। এটি কোনোভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের তালিকায় থাকতে পারে না। বরং এটি সংবিধানের বাঁচার অধিকারসংক্রান্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

ওয়েবিনারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রাক্তন সমন্বয়ক মুহাম্মদ রুহুল, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের বাংলাদেশ কান্ট্রি অ্যাডভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক, দ্য ইউনিয়নের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের (সিটিএফকে) গ্রান্টস ম্যানেজার এম এ সালাম এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত