ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রণীত তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরোধিতা করে পাঞ্জাবের কৃষকদের ডাকা আন্দোলনে সাড়া দিয়েছেন সারা দেশের কৃষকরা। আন্দোলনকারীদের দিল্লি প্রবেশের সময় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হলে, বিক্ষোভের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। অন্য রাজ্য থেকেও কৃষকদের আন্দোলনে শামিল হতে থাকে। এমন অবস্থায় কৃষকদের দিল্লিতে প্রবেশ করতে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
দিল্লির বুরারি সীমান্তে কৃষকরা মহাসমাবেশ করে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কৃষকদের আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল রবিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন কৃষকরা। ফলে গোটা পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর মুখ খুলতে হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। গতকাল ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে মোদি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর সম্প্রতি সংসদে কৃষি সংশোধনী আইন পাস হয়েছে। এ সংশোধনের ফলে কৃষকরা শুধু শিকলমুক্তই হননি, নতুন অধিকার ও নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা এসে পৌঁছেছে তাদের হাতে।’
মোদি আরও বলেন, ‘কৃষি আইনে সংশোধন ঘটানোয় আমাদের কৃষকরা আরও বেশি সুযোগ পাবেন। এ আইন আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এ আইনের আওতায় এক মাসের মধ্যে কৃষকদের সমস্ত অভাব অভিযোগের সমাধান হবে। মহাকুমা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এক মাসের মধ্যে কৃষকদের সব সমস্যার সমাধান করতে হবে।’
মহারাষ্ট্রের ধুলের বাসিন্দা জিতেন্দ্র ভাইজি নামে এক কৃষকের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৩ লাখ ৩২ হাজার টাকায় ভুট্টার বিক্রি পাকা হয়েছিল এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। সেই বাবদ অগ্রিম ২৫ হাজার টাকাও হাতে পেয়েছিলেন। কিন্তু বাকি টাকা আটকে যায়। চার মাস অপেক্ষার পর নয়া কৃষি আইন ব্যবহার করে রক্ষা পান উনি। আইন সম্পর্কে বিশদ জ্ঞানই শেষমেশ কাজে আসে তার।’
ভারতীয় কৃষক ইউনিয়নের পঞ্জাব শাখার সভাপতি জগজিৎ সিংহ টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘কোনোরকম শর্ত ছাড়া খোলামনে আলোচনার প্রস্তাব দিতে পারতেন অমিত শাহ। এ সরকার কৃষকদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতেই চায় না। দেশের সামনে বড়াই করাই একমাত্র কাজ ওদের।’ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ‘শহরের সর্বত্র পুলিশ মোতায়েন করে সরকার দিল্লিতে বিক্ষোভরত কৃষক ও দিল্লিবাসীর মনে সন্ত্রাস ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।’
গতকাল এক টুইট বার্তায় আকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদল কৃষকদের মানহারি করার জন্য হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী এমএল খাট্টারকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই আমরা। আমরা কৃষকবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে এবং কৃষকদের পক্ষে। কৃষকদের বিরুদ্ধে এটা ভারতীয় জনতা পার্টির ষড়যন্ত্র।’
