করোনার সেকেন্ড ওয়েভ

‘ইউরোপের মতো বাংলাদেশে তেমন ক্ষতি করতে পারবে না’

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:২৩ এএম

‘বাংলাদেশে করোনার যে সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে তা ইউরোপের মতো বাংলাদেশে খুব একটা ক্ষতি করতে পারবে না’ এমনটা মনে করছেন বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল। গতকাল মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে এ কথা বলেন তিনি। ক্ষতি করতে না পারার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তাই ইউরোপের মতো সেকেন্ড ওয়েভ তেমন একটা ক্ষতি করতে পারবে না। তবে মাস্ক পরিধানের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। এছাড়া জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।’

বিজন কুমার শীল ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। সিঙ্গাপুরে পৌঁছে সেখানে একটি হোটেলে তাকে ১৫ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন তিনি। সেখানে পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটাচ্ছেন বিজন শীল। তবে উদগ্রীব হয়ে আছেন দেশে ফেরার জন্য। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাগজপত্র পাঠানোর কথা। কাগজপত্র পাঠালে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ দূতাবাসে জমা দেব। সে কাগজ পাইনি।’

সিঙ্গাপুর থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন ড. বিজন। তিনি সাভারে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে শিক্ষকতা করছিলেন। এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি তা শনাক্তে অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি কিটের উদ্ভাবন করেন। তবে তা মান উত্তীর্ণ হয়নি এমন অজুহাতে অনুমোদন দেয়নি সরকার। এরই মধ্যে গত জুলাই মাসে তার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়। তারপর গণস্বাস্থ্যের পক্ষ থেকে ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হলে তাতেও সায় দেয়নি সরকার। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বাতিল করে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।

বিজন কুমার শীলের কাছে কাগজপত্র পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণস্বাস্থ্যের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) পাঠানো হয়েছে। বিডাই সিঙ্গাপুরে বিজন শীলের কাছে এসব কাগজপত্র পাঠাবে। এরপর বিজন এগুলো সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দেবেন। সেখান থেকেই ওয়ার্ক পারমিট পাবেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি ডিসেম্বর মাসেই দেশে আসতে পারবেন বিজন। বিডায় এ সংক্রান্ত কাজ দেখাশোনা করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. আরমান। আরমান নিয়মিত বিডায় যোগাযোগ রাখছেন। তবে বিডার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিলম্ব করছে কাগজ পাঠাতে।’

এর আগে ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত জটিলতায় একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন বিজন শীল। সিঙ্গাপুর যাত্রার প্রাক্কালে তিনি মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, ‘আমি বিমানে উঠেছি। চলে যাচ্ছি সিঙ্গাপুরে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে শিগগিরই দেশে ফিরব।’

এদিকে গণ বিশ^বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. বিজনের ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করা হয়েছে। নতুন করে তার পদের বিজ্ঞপ্তি দিতে বলা হয়েছিল। সেটা সম্পন্ন হয়েছে। ট্যাক্সসহ আরও কিছু কাগজ চেয়েছিল, তাও জমা দেওয়া হয়েছে। আরও একটি বিষয় বলা হয়েছে, ওয়ার্ক পারমিট পেলে বাংলাদেশের বাইরে থেকে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারপর আসতে হবে। এক প্রকার বাধ্য হয়েই ড. বিজনকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছে। গণ বিশ্ববিদ্যালয় ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তার বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ খ্যাতিমান বিজ্ঞানীকে তারা কোনোভাবেই ছাড়তে চান না। ড. বিজনের স্ত্রী ও দুই সন্তান সিঙ্গাপুরে থাকেন। গত সাত মাস গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবে সঙ্গীদের নিয়ে গবেষণা করেছেন।

গবেষণা এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে সিঙ্গাপুরে যেতে পারেননি। তার ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া কতদিনে সম্পন্ন হবে, তা তিনি জানেন না। এখনো বিশ্বাস করেন তার উদ্ভাবিত অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি কিট সরকারের অনুমোদন পাবে। উৎপাদন শুরুর সময়ে তিনি বাংলাদেশে থাকতে চান।

ড. বিজন শীল ২০০২ সালে সিঙ্গাপুর সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। সিঙ্গাপুরের নিয়ম অনুযায়ী চাকরি নেওয়ার পর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

এর আগে ১৯৯৯ সালে ছাগলের মড়ক ঠেকানো ভ্যাকসিন, ২০০২ সালে ডেঙ্গু ও ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের র‌্যাপিড টেস্টের কিট উদ্ভাবন করে আলোচনায় আসেন বিজন কুমার শীল। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতে গণস্বাস্থ্য র‌্যাপিড কিট আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়। এই কিট উদ্ভাবনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন এই বিজ্ঞানী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত