ম্যারাডোনাহীন পৃথিবীতে আমার জীবন আগের মতো থাকবে না

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:০০ এএম

জন্মের ১৯ বছর পরে বাবা ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে প্রথম দেখেন ডিয়েগো সিনগ্রার। ২০০৪ সালে যখন স্ত্রী ক্লদিয়ার সঙ্গে ২০ বছরের দাম্পত্য ভেঙে যায়, তখন ডিয়েগো ম্যারাডোনা স্বীকার করেন ডিয়েগো সিনাগ্রার জন্মদাতাও তিনি। ওর জন্ম ১৯৮৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। বিশ্বকাপ জিতে নেপলসে ফেরার পর সাংবাদিকরা তার কাছে ডিয়েগো জুনিয়রের পিতৃত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তা অস্বীকার করেন ম্যারাডোনা। ডিএনএ পরীক্ষাতেও রাজি হননি। পরে স্বীকার করেন নেপলসের স্থানীয় তরুণী ক্রিস্টিনা সিনাগ্রার সঙ্গে সম্পর্কের ফল ডিয়েগো সিনাগ্রা। বাবার নাম এবং মায়ের পদবি নিয়ে বড় হওয়া ডিয়েগো জুনিয়র ফুটবলও খেলতেন। বয়সভিত্তিক ইতালিকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এখন কোচিংয়ে জড়িত। করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে শুয়ে শুনেছেন বাবার মৃত্যুর খবর। সেখান থেকেই স্প্যানিশ দৈনিক মার্কাকে দিয়েছেন সাক্ষাৎকার।

এখন কেমন লাগছে?

ডিয়েগো জুনিয়র : খুব খারাপ লাগছে। আমার ঘুমাতে কষ্ট হচ্ছে। (মৃত্যু সংবাদ) কিছুই ভুলতে পারছি না। চোখ বন্ধ করলে খবরটা মাথায় ঘুরছে। তবু ঘুমানোর চেষ্টা করছি।

বুয়েন্স আয়ার্সে ম্যারাডোনাকে দেখতে যেতে পারেননি। খুব বেদানাদায়ক, না?

ডিয়েগো জুনিয়র : এর চেয়ে খারাপ কিছু হয় না। বাবার মৃত্যুর সময় আমি তার পাশে থাকতে পারিনি, শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ করতে পারিনি, পরিবারের সবার সঙ্গেও দেখা হলো নাৃআমি ১৫ হাজার মাইল দূরে হাসপাতালে শুয়েছিলাম।

কীভাবে খবরটা শুনলেন?

ডিয়েগো জুনিয়র : বাবা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই মেসেজ করতাম। ফোনও করতাম। সেদিন বারবার ফোন করি। এরপই তারা জানালো...

বাবার সঙ্গে আপনার স্মৃতি বলুন?

ডিয়েগো জুনিয়র : ফুটবলের প্রতি আমাদের অগাধ প্রেম ছিল। তার সঙ্গে বসে ফুটবল ম্যাচ দেখা ছিল অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। ফুটবলই তার সঙ্গে আমার সেতুবন্ধ।

এক সঙ্গে ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা বলুন?

ডিয়েগো জুনিয়র : একজন ফুটবলারের সব জানত সে। আমি আমার মন্তব্য জানাতাম, সে তারটা। দিনশেষে তার মন্তব্যই ঠিক হতো। আমার কাছে এগুলো খুব উপভোগ্য ছিল। আমি নাপোলির ম্যাচ তার সঙ্গে দেখেছি, জাতীয় দলের খেলাও দেখেছি। কার খেলা উচিত, কার নয় সেসব নিয়ে তার মন্তব্য শুনতাম। ভিন্নমত দিইনি। আমরা খুব খোলামনের ছিলাম। আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক ছিল। বাবার সঙ্গে তর্ক করতাম না।

খুব অল্প বয়সে আপনাকে ত্যাগ করেন ম্যারাডোনা...

ডিয়েগো জুনিয়র : এটা এমন ব্যাপার যা আমি কোনোদিন মেনে নিতে পারিনি। আমি জানতাম না সে আমাকে স্বীকৃতি দেবে কি না। অল্প বয়সে তাকে কাছে পাইনি। জীবনটা এমনই।

এরপর আপনার জীবন কেমন হবে?

ডিয়েগো জুনিয়র : একজন কোচ হিসেবে হয়তো আমার জীবন আগের মতোই থাকবে। কিন্তু ম্যারাডোনাবিহীন পৃথিবীতে আমার জীবন আর আগের মতো থাকবে না। চাইলেই ফোন করে তার সঙ্গে (ম্যারাডোনা) কিছু নিয়ে আলোচনা করতে পারব না। বেদনাদায়ক সত্যি হলো বাবা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।

চাইলেই কি আপনার বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারতেন?

ডিয়েগো জুনিয়র : যখন চাইতাম তখনই বুড়ো লোকটার সঙ্গে কথা বলতে পারতাম। অবশ্য সে কখনই কারোর সঙ্গেই কথা বলত না তখন আমার সঙ্গেও বলত না।

এখন কি চান?

ডিয়েগো জুনিয়র : আমার বাবার মতো কান্নার স্বাধীনতা চাই। আমার বিশ্বাস কিছু বলার চেয়ে চুপ থাকাই এখন আমার জন্য শ্রেয়। অন্তত এমন শোকবিহ্বল মুহূর্তে।

ম্যারাডোনার প্রতি মেসির শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে কিছু বলবেন?

ডিয়েগো জুনিয়র : লিও যা করেছে তা খুব স্পেশাল। খুব হৃদয়গ্রাহীও। মাঠে ম্যারাডোনার প্রতি লিওর সম্মান জানানো দেখে আমি কেঁদেছি। নাপোলির শ্রদ্ধাও আমাকে আবেগাক্রান্ত করেছে। 

আপনি কি মনে করেন ১০ নম্বর জার্সি তুলে রাখা উচিত?

ডিয়েগো জুনিয়র : বার্সেলোনাসহ ম্যারাডোনা যেখানে খেলেছে আমি মনে করি সেই সব জায়গায় ১০ নম্বর জার্সি অবশ্যই তুলে রাখা উচিত। এটা নিয়ে আমার মনে কোনো দ্বিধা নেই। এতে ম্যারাডোনার অলৌকিক প্রতিভার প্রতি সম্মান জানানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত