সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িস্থ দিপ্তি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শাহাদাত হোসেন (৪০) নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা-পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া ব্যাংক কর্মকর্তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন মারধরসহ মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছেন। শাহাদাত হোসেন শহরের ডনচেম্বার এলাকার মৃত হাবিবুল্লাহ মাস্টারের ছেলে ও টানবাজার শাখার অগ্রণী ব্যাংকের ম্যানেজার।
শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ফতুল্লা থানার জালকুড়িস্থ দিপ্তি মাদকাসক্ত নিরাময় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে তাকে উদ্ধার করে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়।
এ ঘটনায় দিপ্তি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক খোকন মিয়াকে (৪৩) আটক করেছে পুলিশ।
আটক খোকন সদর থানার ৬৫ নং বি কে রোডের মৃত আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগী শাহাদাত হোসেনের ভাতিজা মো. ইয়াসিন দেশ রূপান্তরকে জানান, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ৮/১০ জন লোক তার চাচাকে মারতে মারতে টেনে হিঁচড়ে বি,কে,এম,ই লেখা সাদা মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে তারা সদর থানাকে অবগত করার পাশাপাশি ৯৯৯ -এ ফোন করেন। পরে ফতুল্লা থানা-পুলিশের এসআই শামীম রাত সাড়ে তিনটার দিকে জালকুড়িস্থ দিপ্তি মাদকাসক্ত নিরাময় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে তার চাচাকে উদ্ধার করে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়।
ঘটনার শিকার ব্যাংক কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বি,কে,এম,ই লেখা সাদা মাইক্রোবাসে করে তাকে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে ব্যাপক টর্চার করা হয়। একপর্যায়ে তারা তার মাথা ন্যাড়া করে দেয় এবং তাকে ইনজেকশন পুশ করার চেষ্টা করে। পরে তাকে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে।’
এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই শামীম দেশ রূপান্তরকে জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে দিপ্তি মাদক নিরাময় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে আহতাবস্থায় ব্যাংকার শাহাদাত হোসেনকে উদ্ধারসহ খোকন নামের একজনকে আটক করে নিয়ে আসা হয়।
জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী তার স্বামীকে মাদকাসক্ত আখ্যায়িত করে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য আবেদন করেন। মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন শনিবার বিকেলে ব্যাংক কর্মকর্তাকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী রওশন আরা জানান, তার স্বামী একজন মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগী। তার স্বামী তাকে নিয়মিত মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করতেন।
