জাতীয় প্রেসক্লাবে তাজরীন ফ্যাশন ও এ-ওয়ান বিডি গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান অবস্থান কর্মসূচি উঠিয়ে না নিলে বলপ্রয়োগ করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি শ্রমিকদের জানিয়ে রবিবার রাতের মধ্যে কর্মসূচি তুলে নিতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিকরা তা প্রতিহত করে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
বিকেলে আন্দোলনরত শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
তাজরীন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিপূরণ বঞ্চিত আহত শ্রমিকরা গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এবং ১১ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে এ-ওয়ানের শ্রমিকরা গত ২ ডিসেম্বর থেকে প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। পুলিশ বলছে, শ্রমিকরা ডিএমপির অনুমতি ছাড়াই গণজমায়েত করে কর্মসূচি পালন করছেন। এখন কর্মসূচি তুলে নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বরাবর জমায়েতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে। যদি অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে শ্রমিকরা ফের কর্মসূচি দিতে পারেন।
শ্রমিক নেতারা বলেছেন, কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা তারা প্রতিহত করবেন। তাদের আর পিছু ফেরার রাস্তা নেই। যদি ফিরতে হয় তাহলে প্রাপ্য বকেয়া আদায় করেই তারা ফিরবেন। শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কর্মসূচি তুলে না নিলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহারের করার হুমকি দিয়েছে। এমনকি গণহারে গ্রেপ্তারের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
তাজরীনের শ্রমিক রেহানা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশের কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা প্রেসক্লাবে এসেছিল। তারা রবিবার রাতের মধ্যে আমাদের উঠে যেতে বলেছেন। আমরা না উঠলে লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে পিটিয়ে আন্দোলন ভেঙে দেবে। তবে আমরা বলেছি উঠব না। উঠলে ক্ষতিপূরণ নিয়েই উঠব।
শ্রমিক জরিনা বেগম বলেন, পুলিশ আসার পর আমরা বলেছি আমাদের ক্ষতিপূরণ দিলেই তো কর্মসূচি শেষ করে দেব। এমনিতেই চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছি। এখন পুলিশ মারলে না হয় একেবারে মরব। আমরা মরতে রাজি আছি কিন্তু খালি হাতে ঘরে ফিরব না।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকেই এ-ওয়ান গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাইক ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না। নানাভাবে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের বলেছেন যদি আন্দোলন তুলে না নেওয়া হয় তাহলে জোর করে ভেঙে দেওয়া হবে। যদি পুলিশ আন্দোলন ভাঙতে আসে তাহলে শ্রমিকরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির রমনা জোনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (এসি) এস এম শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডিএমপির অনুমতি ছাড়া জমায়েত করা যাবে না উল্লেখ করে গত বুধবার একটি নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রেসক্লাবের আন্দোলনরত শ্রমিকরা আগে অনুমতি নেয়নি। সুতরাং, আইন অনুযায়ী তারা আর ওখানে বসতে পারবে না।
তিনি দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, অনুমতির আবেদন করেও কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। অনুমতি নিতে ডিএমপি কমিশনার বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদন করার পর অনুমতি মিলতেও পারে, নাও মিলতে পারে। অনুমতি পেলে তারা আবার আন্দোলন করতে পারে তবে এখন তাদের উঠতেই হবে।
