কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত সমাবেশে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে, পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সোমবার বিকেলে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ’ শিরোনামের একটি ব্যানার থেকে সমাবেশ আয়োজন করা হয়। বিকেল ৪টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই পুলিশ এসে অনুমতিপত্র চায়।
পুলিশের বাধার মুখে ওই সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করা হয় বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন সমাবেশের অন্যতম আয়োজক রবিন আহসান।
তিনি বলেন, শাহবাগে সমাবেশ করতে নাকি অনুমতি নিতে হবে। আমাদের এটা জানা ছিল না। যে কোনো অন্যায়, অনাচারের বিরুদ্ধে শাহবাগে আমরা অতীতেও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি। কিন্তু এখন নাকি শাহবাগে সমাবেশ করতে অনুমতি নেওয়া লাগবে। এ জন্য পুলিশ এসে আমাদের সমাবেশে বাধা দেয়। পরে আমরা সংক্ষিপ্ত আকারে আমরা সমাবেশ করেছি।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদ এবং এর উসকানিদাতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়ে সমাবেশে বক্তারা বলেন, দিনের পর দিন এই মৌলবাদী গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তারা এখন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার সাহস পেয়েছে। এ দায় আওয়ামী লীগকে নিতে হবে। মৌলবাদীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় আপস করা হয়েছে। সেই আপসের কারণেই এই মৌলবাদীরা এখন জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙার সাহস দেখায়। বাংলাদেশে বসবাস করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। এই দেশ সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সেটা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ধর্ম নিয়ে এই দেশে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। ভাস্কর্য ভাঙার উসকানি যারা দিয়েছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে, যাতে করে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন দুঃসাহস দেখাতে না পারে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন রবিন আহসান, সঙ্গীত ইমাম, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, আশরাফুল হক, জীবনানন্দ জয়ন্ত প্রমুখ।
রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, শাহবাগে কোনো ধরনের সমাবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
প্রসঙ্গত, বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপির জনসংযোগ শাখা জানায়, বিদ্যমান আইনে বৈধ কোনো দল বা গোষ্ঠীর সমাবেশের স্বাধীনতা থাকলেও বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের আছে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের নাগরিক সুবিধা অক্ষুণ্ন রাখা, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে এ ধরনের কর্মসূচি পালন এবং শব্দযন্ত্র ব্যবহারের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অধ্যাদেশ অনুসারে ডিএমপি কমিশনারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে।
