সদস্য দেশগুলোর করোনা ভ্যাকসিন কেনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত পরিবহন ও সংরক্ষণে সহযোগিতা দিতে নতুন করে ৯০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল শুক্রবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এডিবির প্রধান কার্যালয়ে ‘এশিয়া প্যাসিফিক ভ্যাকসিন একসেস ফ্যাসিলিটি (এপিভিএএক্স)’ নামে এই তহবিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৬৮টি দেশ বা অঞ্চল এডিবির সদস্য। সদস্য হিসেবে বাংলাদেশও এই তহবিল থেকে করোনার টিকা কেনার আর্থিক সহযোগিতা পাবে। এর আগে সদস্য দেশগুলোর করোনার প্রভাব মোকাবিলায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ২ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠন করে এডিবি।
এক বিবৃতিতে এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, এডিবির সদস্য উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের জনগণকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন তাদের ভ্যাকসিন কেনার জন্য অর্থের পাশাপাশি পুরো টিকাদান প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নিতে সঠিক পরিকল্পনা ও জ্ঞানের প্রয়োজন হবে। এপিভিএএক্সের আওতায় টিকা কেনার পাশাপাশি তা নিজ নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থায়ন করবে এডিবি। পাশাপাশি টিকা বিরতণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই এই অর্থায়ন করবে এডিবি। এর আওতায় এডিবির সদস্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধিরও সুযোগ ঘটবে। টিকা আমদানির ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর যাতে আর্থিক সমস্যায় পড়তে না হয়, সেজন্য ৫০ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে দেবে এডিবি।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৪৩ লাখের বেশি মানুষের কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে, মারা গেছে ২ লাখের বেশি। মহামারীর কারণে ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় মোট আঞ্চলিক উৎপাদন ১৯৬০ সালের পর প্রথমবারের মতো সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ২০২১ সালে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং ৬ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।
কভিড-১৯ ভ্যাকসিন কেনার জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশকে ৩০ লাখ ডলার (২৫ কোটি টাকা) অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাপানের আর্থিক সহায়তায় এডিবির গঠন করা ‘এশিয়া প্যাসিফিক ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড’ থেকে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
করোনা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এ পর্যন্ত ৬০ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে এডিবি। এর মধ্যে গত ৭ মে করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার দেওয়া হয়। এর আগে ৩০ এপ্রিল সহজ শর্তে ১০ কোটি ডলার জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া কভিড থেকে নানা ধরনের চিকিৎসা ও সুরক্ষাসামগ্রী কেনার জন্য এডিবি থেকে আরও প্রায় ৩৫ লাখ ডলার অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশ।
