সম্প্রতি জমকালো আয়োজনে শেষ হয়েছে ‘ঐক্য-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’ এর ১৫তম আসর। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজধানী ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সম্পন্ন হয়েছে পুরস্কার প্রদানের অন্যতম এই আসর। সংগীতের বিভিন্ন বিভাগে দেয়া হয়েছে পুরস্কার।দেশের তারকা সংগীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকারদের মিলন মেলায় শ্রেষ্ঠ লোকগীতি শিল্পী হিসেবে এ আসরে সায়েরা রেজাকে সম্মাননা দেয়া হয়।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সায়েরা রেজা বলেন, সকল প্রশংসা দয়াময়ের। লোকসংগীতে পাওয়া এবারের দেশ সেরা শিল্পীর স্বীকৃতি আমার দায়িত্বটা বাড়িয়ে দিলো বহুগুন। এ ধরনের পুরস্কার জেতা অবশ্যই আনন্দের ও গর্বের। তবে আমি মনে করি ,আসল পুরস্কার পাওয়া হয় তখনই, যখন আমার গানে কোনো ভিনদেশির চোখেও জল আসে কিংবা আমার গান ভালোবাসে কোনো ভক্ত তার সদ্যজাত কন্যা সন্তানের নাম রাখে আমার নামে। খুব ভালো লাগে যখন কাউকে বলতে শুনি "আপা আপনার গান শুনে শুনে আমার কৈশোর কেটেছে" কিংবা "আপনার গান না বাজালে আমার বাচ্চাটা খেতেই চায় না" কিংবা আশরাফুলদের মতো ক্রিকেটাররা যখন বলে "ঢাকা স্টেডিয়ামে ম্যাচের ব্রেক টাইমে আপনার গান শুনে আমরা উজ্জীবিত হতাম। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সংগীত ক্যারিয়ারের ত্রিশ বছর পূর্ণ করা সায়রা রেজা রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক এবং ফোক গানের প্রতি আত্মনিবেদনের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার মধ্যে ১৯৮৮ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ পল্লিগীতি গায়িকার সনদ গ্রহন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে জাতীয় সাংস্কৃতিক সংস্থা হতে রবীন্দ্র সংগীত ও পল্লীগানের উপর গৌরবময় স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এই গায়িকা ‘আব্বাস উদ্দীন স্বর্ণ পদক’, ‘ভাস্কর স্বর্ণ পদক’ ‘খেলাঘর স্বর্ণপদক’ সহ একাধিক স্বীকৃতি অর্জন করেন।
ভবিষ্যতে সময় সুযোগ হলে গানের একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন গানের এ পাখি। নিয়মিত চর্চা চলছে নিজেকে আরো শানিত করার। ‘সায়রা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ শিরোনামে একটি ব্যান্ড গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে বলে তিনি জানান।
