ওসমান পরিবারের সহযোগিতায় দুবাই থেকে ফিরছে না.গঞ্জের মনিরের লাশ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৩৬ পিএম

দুবাই প্রবাসী স্বামীর সাথে শেষ কথা হয়েছিল ‘কিছুক্ষণ পর চা খাবো’। এরপরই খবর আসে চা খেয়ে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা হলে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা গেছেন।

গত ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে ফতুল্লার পঞ্চবটির হরিহর পাড়ায় বাস করা স্ত্রী ঝর্না বেগমের সঙ্গে শেষ কথা হয় দুবাই প্রবাসী মনির হোসেনের।

করোনায় বিমান ভাড়া বৃদ্ধি ও আইনি জটিলতার কারণে লাশ পড়ে ছিল দুবাইয়ের মর্গে।

২৫ দিন হিমাগারে লাশ থাকার পর ওখানেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর মধ্যে ১২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সপরিবারে দুবাই যান, সঙ্গে ছিলেন তার শ্যালক নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি তানভির আহম্মেদ টিটু।

মৃত মনিরের লাশ দেশে পাঠানোর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন দুবাইয়ের ‘নারায়ণগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ’। সংগঠনটির সভাপতি মোক্তার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ্ রাজুর মাধ্যমে তানভির আহম্মেদ টিটু মনিরের পুরো বিষয়টি জানতে পারেন। আইনি জটিলতার পাশাপাশি অর্থ সংকটের জন্য লাশ দেশে পাঠানো যাচ্ছে না।

বিষয়টি দ্রুত সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে জানান টিটু। বিদেশের মাটিতে নারায়ণগঞ্জের প্রবাসীর শেষ বিদায়ের পরিণতি সালমা ওসমান লিপির (শামীম ওসমানের স্ত্রী) হৃদয়ে কষ্টের চাপ বাড়ে।

অবশেষে এমপি শামীম ওসমান, সালমা ওসমান লিপি ও তানভির আহম্মেদ টিটু ৩ জনের সহযোগিতায় প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে লাশটি দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

বুধবার রাতে দুবাই একটি বিমানে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। ১৭ ডিসেম্বর সকালেই পরিবারের সদস্যরা লাশ আনার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবস্থান করছেন।

নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি তানভির আহম্মেদ টিটু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ তাদের সহযোগিতা ও বাংলাদেশি কনস্যুলেটের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ কাজটি করা সম্ভব হয়েছে।’

মৃত মনির হোসেনের স্ত্রী ঝর্না বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার জীবনের অনেক বড় ইচ্ছে পূরণ করেছেন শামীম ওসমান-সালমা ওসমান লিপি ও তানজির আহাদ টিটি ভাই। আমরা তাদের এই ঋণ কখনো পরিশোধ করতে পারব না। শুধু দোয়া করতে পারব, আল্লাহ যেন তাদের মনের ইচ্ছাও পূরণ করেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত