চট্টগ্রামে মৃত্যু-শনাক্ত বাড়ছে

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৪৮ এএম

শীতের তীব্রতার সঙ্গে চট্টগ্রামে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের হার। গত সোমবার এক দিনেই শনাক্ত হয় ২৮৫ জন। সেদিন পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ১১২ জন। আর চট্টগ্রামে শনাক্তের পাশাপাশি করোনা রোগীর মৃত্যু সংখ্যাও বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার প্রকোপ শুরুর প্রথম দিকের চেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। শীত মৌসুমের প্রভাবে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় এমন পরিস্থিতি।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে শনাক্ত হওয়া ২৮ হাজার ১১২ জন করোনা রোগীর মধ্যে নগরীর ২১ হাজার ৫২৪ এবং উপজেলার ৬ হাজার ৫৮৮ জন রয়েছে। এর মধ্যে গত সোমবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নয়টি ল্যাবে ১ হাজার ৮০২টি নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হওয়া ২৮৫ জনের মধ্যে নগরীর ২৫২ জন, বাকিরা উপজেলার বাসিন্দা। এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর শনাক্ত হয় ১৯৩ জন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলতি মাসে করোনা শনাক্তের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি মৃত্যুও বেড়েছে। প্রথমদিকে যখন করোনা সংক্রমণ শুরু হয় তখন শীতকাল ছিল না, বর্তমানে সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউটার ঝুঁকি বেশি এই শীত মৌসুমের কারণে। বিশেষ করে জটিল রোগীরা বেশি ঝুঁকিতে।’

এদিকে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। সর্বশেষ গত সোমবার চট্টগ্রামের সরকারি পাঁচটি হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল ১৮৬ জন। আর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১১৫ জন করোনা রোগী।

জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শীতকালে ঠাণ্ডায় যেহেতু যেকোনো ফ্লু বাড়ে এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে, সেজন্য আরও সচেতন হয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে পারলে সংক্রমণ ঝুঁকি কমবে। বয়স্করা বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত থাকে। এর মধ্যে করোনা সংক্রমণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবে হ্রাস পায়। তাই এখনই উচিত পরিবারের বয়স্কদের বিষয়ে বাড়তি যত্ন নেওয়া। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।’

জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘যাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও হাঁপানিজনিত সমস্যা রয়েছে তারা ঝুঁকিতে বেশি। তবে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে অনেক রোগী অক্সিজেন সাপোর্ট পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে। তাই করোনা আক্রান্ত বয়স্ক ও জটিল রোগীদের বাসায় না রেখে হাসপাতালে আনা উচিত। তাহলে মৃত্যুঝুঁকি কমার পাশাপাশি উপযুক্ত চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে। এছাড়া এই মুহূর্তে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে শনাক্ত ও মৃত্যু হার কমে যাবে। তবে মাস্ক ছাড়া অনেক মানুষ বের হচ্ছে, যাদের কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত