ক্ষতিপূরণবঞ্চিত তাজরীন শ্রমিকদের তালিকা প্রস্তুত

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:৫৫ এএম

অবশেষে তাজরীন ফ্যাশনস অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিপূরণবঞ্চিত শ্রমিকদের একটি প্রাথমিক তালিকা শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ)। গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেস ক্লাবে তাজরীন শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি শুরুর পরপর তদন্তে নামে ডাইফ। এরপর আন্দোলনরত শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে দেশের গার্মেন্টস মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএতে চিঠি পাঠায় অধিদপ্তর। এ সপ্তাহেই ৩৬ শ্রমিকের পরিচয় নিশ্চিত করে অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বিজিএমইএ। ডাইফ থেকে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ বঞ্চিত শ্রমিকদের তালিকা পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় ইতিবাচক। প্রাথমিক যাচাইবাছাই শেষে খুব দ্রুতই শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে এককালীন কিছু টাকা পাবে তাজরীনের আন্দোলনরত শ্রমিকরা। তবে কিছু শ্রমিক আগেই বিভিন্ন অনুদান সূত্রে কিছু টাকা পাওয়ায় তালিকার সবাই সম্ভবত একই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবে না। যাচাইবাছাই শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জানা গেছে, তালিকায় ৭ শ্রমিক আছেনযারা আগে অনুদান বা এ ধরনের কোনো টাকাই পাননি। বাকিরা কমবেশি কিছু টাকা আগে পেয়েছেন।

শ্রমিকরা বলছেন, বাংলাদেশের শ্রম আইনের ক্ষতিপূরণ বিষয়ক ধারা শ্রমিকদের পক্ষে নয়। কল্যাণ তহবিল থেকে এককালীন সামান্য টাকায় তাদের ঋণই পরিশোধ হবে না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী অগ্নিকাণ্ডে অক্ষম হয়ে পড়া শ্রমিকদের একজীবনে সম্ভাব্য আয়ের সমপরিমাণ টাকা ক্ষতিপূরণ চাইছেন তারা।

শ্রমিকদের আন্দোলনের দাবিতে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবিও ছিল। এ দাবিগুলো মেনে না নিলে ফের আন্দোলনে নামবেন তারা। আবার ডাইফের পাঠানো তালিকা সংশোধন করে বিজিএমইএ মাত্র ৩৬ শ্রমিকের ব্যাপারে তথ্য পাঠিয়েছে। আন্দোলনে থাকা বাকি শ্রমিকরাও যাতে অন্তর্ভুক্ত হন সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিছু অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় ৮৫ দিন ধরে তাজরীনের শ্রমিকরা ঢাকায় অবস্থান করছে। আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে কর্মকর্তাদের দিয়েছি। তাড়াতাড়িই শ্রমিকরা টাকা পেয়ে যাবেন বলে আমরা আশাবাদী। তবে এ টাকা একজন অক্ষম শ্রমিকের জন্য যথেষ্ট নয়। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী অক্ষম শ্রমিকদের একজীবনে সম্ভাব্য আয়ের সমপরিমাণ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া উচিত।’

আন্দোলনরত শ্রমিকদের মুখপাত্র জরিনা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রেস ক্লাব থেকে পুলিশ আমাদের তুলে দেওয়ার পর এখন আমরা পল্টনে আছি। শীতের মধ্যে থাকা-খাওয়ার খুবই অসুবিধা। এক বেলা খেতে পেলে আরেক বেলা ঠিকমতো খেতে পারি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কল্যাণ তহবিলের সামান্য টাকা দিয়ে অক্ষম শ্রমিকদের ঋণই পরিশোধ হবে না। একজীবন আয়ের সমান টাকা আমাদের দাবি। আর ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবিও আমাদের আছে। তিনটি দাবিই মেনে নিতে হবে। না মানলে আমরা ফের আন্দোলনে যাব।’

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক এ কে এম সালাউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুরুর তদন্ত শেষে আমরা বিজিএমইএ-কে আন্দোলনরত শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য চিঠি পাঠাই। উত্তরে তারা ৩৬ শ্রমিকের একটি তালিকা আমাদের পাঠিয়েছে। সেখানে শ্রমিকদের পরিচয়ের পাশাপাশি এদের কী পরিমাণ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আন্দোলনরত শ্রমিকদের মধ্যে সর্বনিম্ন দেড় লাখ থেকে সর্বোচ্চ উনিশ লাখ টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন এমন লোকও আছে। বেশ কয়েকজন পাঁচ-ছয় লাখ করেও পেয়েছেন অনুদান হিসেবে। টাকা পাননি এমন শ্রমিকও আছে।  তালিকা ও প্রয়োজনীয় তথ্য আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেখানে যাচাইবাছাই শেষে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ শ্রম সচিব কে এম আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা দেখছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত