রাজধানীর পল্লবীতে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীসহ চারজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবীর অ্যাভিনিউ-৫ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ব্যবসায়ী সৈয়দ ফয়েজ, তার বন্ধু ইমরান, জুয়েল ও হাবীব। তারা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহতদের স্বজনরা জানান, পল্লবীর বাসিন্দা সৈয়দ ফয়েজ একজন শাড়ি ব্যবসায়ী। তার দোকানের নাম ‘সামিয়া সিল্ক হাউজ’। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক কামরুল হাসান জয় গত ১৩ ডিসেম্বর তার দোকানে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ফয়েজ টাকা দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপর থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে ফয়েজ ও তার বন্ধুরা হাজী হোটেলের সামনে চা পান করার সময় জয় ও তার সঙ্গীরা গিয়ে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে ফয়েজকে কোপানো শুরু করে। এ সময় তার বন্ধুরা বাঁচাতে গেলে তাদেরকেও কোপানো হয়। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ফয়েজের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় ফয়েজের বড় ভাই সৈয়দ সাদ্দাম হোসেন পল্লবী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাইসহ অন্যদের কোপায় ছাত্রলীগ নেতা জয় ও তার সহযোগীরা। চাঁদা না দেওয়ার কারণেই এ হামলা চালানো হয়েছে।’ তিনি জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান জয় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কেউ ফয়েজকে ব্যবহার করছে। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ফয়েজ ও তার পরিবারের সদস্যরা কেমন এলাকার লোকজনের কাছে জিজ্ঞাসা করলেই পরিষ্কার হবে। প্রকৃতপক্ষে তারা অন্য কোনো বিরোধে অন্য কারও দ্বারা আহত হয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, দুইপক্ষের মধ্যে মারামারি ও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে চাঁদাবাজির বিষয়টি জানি না। এ ঘটনায় মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
