জয়পুরহাটে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল পৌনে সাতটার দিকে জয়পুরহাট সদরের পুরানাপৈল রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় ক্রসিংটির গেইট খোলা ও দায়িত্বে থাকা গেটম্যান ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ৫ জনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জয়পুরহাটের এই দুর্ঘটনার পর উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে ধীরে ধীরে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে পটুয়াখালীর বাউফলে মো. এনায়েত হোসেন (৪৫) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা এবং মাগুরার শ্রীপুরে ট্রাকের ধাক্কায় নাজমুল হোসেন (২৭) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :
জয়পুরহাটে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২ : জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা ‘উত্তরা’ নামে একটি ট্রেন রাজশাহীতে যাচ্ছিল। এ সময় জয়পুরহাট থেকে হিলি যাওয়ার পথে পুরানাপৈল রেলগেটে লাইনের ওপর একটি বাস ওঠা মাত্রই ট্রেনটির ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১২ জনের মৃত্যু হয়। আহত ৬ জনকে উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে এবং সেখান থেকে গুরুতর আহত ৫ জনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নিহত ১১জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন জয়পুরহাট শহরের চিত্রাপাড়ার মৃত মোন্ডা আলীর ছেলে রেজাউল করিম (৬০), পাঁচবিবির আটুল গ্রামের আলতাব হোসেনের দুই ছেলে সানোয়ার হোসেন বাবু (৩০) ও আরিফুর রহমান রাব্বি (১৮), আটাপাড়ার মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম নাসিম (২৮), সদরের হিচমী দক্ষিনপাড়ার মৃত মানিক হোসেনের ছেলে রমজান আলী (৩৬), কুঠিবাড়ীর শরিফুল ইসলামের ছেলে আ. লতিফ (২৯), আক্কেলপুরের চকবিলা গ্রামের দুদু কাজির ছেলে সাজু মিয়া (২৬), ক্ষেতলালের ইটাখোলার মংলার ছেলে সুমন (৩৫), নওগাঁর রানীনগরের বিজয়কান্দির গ্রামের গোড়া মিয়ার ছেলে বাবু (৫৫), টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরের মাটিকাটা গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে জুলহাস (৬০) এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসের সুপারভাইজার পাঁচবিবির জিয়ার মোড়ের মৃত মিরাজের ছেলে জিয়া (৫৫)।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সালাম কবির।
সালাম কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘রেলক্রসিং খোলা ছিল। গেটম্যান ঘুমিয়ে ছিলেন। রেলক্রসিং খোলা দেখে বাসচালক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।’
জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ এ পর্যন্ত ১২টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। রেলওয়ের জিআরপি পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’
জিআরপি সৈয়দপুরের এসআরপি সিদ্দিকী তানজিরুল রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা তদন্ত কমিটি করেছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকার পরে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে রেল চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।’
জয়পুরহাটে প্রায় ৫২ কিলোমিটার রেলপথ। এখনো প্রায় ২৫টি অরক্ষিত রেলগেট যেন মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে আছে। এসব অরক্ষিত রেলগেট ও রেলক্রসিংয়ের গেটম্যানের দায়িত্ব অবহেলার কারণে ২০০৬ সালের ১১ জুলাই আক্কেলপুর বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ৪০ জনের মৃত্যু হয়। তারপরও জেলার বিভিন্ন রেলক্রসিংয়ে এরকম ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। দ্রুত অরক্ষিত রেলগেট নির্মাণ করে দায়িত্ব অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।
বাউফলে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত : পটুয়াখালীর বাউফলে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. এনায়েত হোসেন (৪৫) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাতে বগা-বাউফল সড়কের শাপলাখালী এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এনায়েত ঝালকাঠীর নলছিটি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানি গ্রামে।
বাউফল থানা পুলিশ জানায়, নিহত এনায়েত নলছিটি থেকে মোটরসাইকেলে (নিজে চালিয়ে) নিজ বাড়ি দশমিনা যাচ্ছিলেন। রাত আটটার দিকে বগা-বাউফল সড়কের শাপলাখালী এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক এনায়েতকে মৃত ঘোষণা করেন। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত : মাগুরার শ্রীপুরের লাঙ্গলবাধ-ওয়াপদা সড়কের মাটিকাটা গোয়ালবাড়ি এলাকায় গতকাল বিকালে ইটবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় নাজমুল হোসেন (২৭) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহত নাজমুল শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে।
নাকোল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রসেনজিৎ কুমার জানান, বিকালে মাগুরা সদরের রামনগর এলাকা থেকে এইচএসবি এন্টারপ্রাইজ নামে ইটভাটা থেকে ইট নিয়ে ট্রাকটি লাঙ্গলবাধ যাচ্ছিল। ইটবাহী ট্রাকটি বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী নাজমুল ঘটনাস্থলে নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন।
শাহবাগে পুলিশের পিকআপে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় আহত ১ : রাজধানীর শাহবাগ মৎস্য ভবনের সামনে আসামিসহ আদালতে যাওয়ার সময় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় একটি পিকআপ ভ্যানের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এতে একজন সামান্য আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ভাষানটেক থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘থানা থেকে একটি মামলার ভিকটিম ও আসামিকে নিয়ে আদালতের দিকে রওনা হই। আমাদের লেগুনা পিকআপটি যখন মৎস্য ভবন অতিক্রম করছিল তখনই একটি মাইক্রোবাসের ধাক্কায় পিকআপের সামনের অংশ উঠে যায়। এতে গাড়িতে থাকা ভিকটিম আহত হন। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার মাথায় সেলাই লেগেছে। আসামিসহ আমরা দুজন সামান্য আহত হয়েছি।’
মাইক্রোবাসটি ও তার চালককে শাহবাগ থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান শাহবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ মামুন অর রশিদ।
