যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরনে শঙ্কিত ডব্লিউএইচও

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:২৪ এএম

যুক্তরাজ্যে নতুন ধরনের কভিড-১৯ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছে এবং নতুন ধরনের করোনা শনাক্তের বিষয়ে তারা অবগত আছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ভাইরাসের পরিবর্তন ও চলমান গবেষণা সম্পর্কে যুক্তরাজ্য বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে।

আগে যে ধরনের ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে তার চেয়ে নতুন ধরনের এই কভিড-১৯ ভাইরাস আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের ভাইরাস আরও বেশি প্রাণঘাতী নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমণ যেন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য লন্ডনসহ ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বের একটি বড় অংশজুড়ে নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্তের কথা ঘোষণার পর দেশটি থেকে ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস এবং বেলজিয়ামও। ইউরোপের আরও অনেক দেশই সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে। বেলজিয়ামে কেবল যুক্তরাজ্যের ফ্লাইটই নয় ট্রেন চলাচলও নিষিদ্ধ হয়েছে। জার্মানি এবং ফ্রান্সও একইরকম পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে নেদারল্যান্ডস সরকার জানিয়েছে, এদিন থেকেই যুক্তরাজ্যের সব যাত্রীবাহী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং চলবে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ৪ হাজার ২১৯। এর মধ্যে মারা গেছে ৬৭ হাজার ৭৫ জন। দেশটিতে বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে ১ হাজার ৩৬৪ জন। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত শনিবার কার্যকর লকডাউন জারি করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ইংল্যান্ডের প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ লকডাউনের আওতায় থাকছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লন্ডন এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে নতুন করে ৪ মাত্রার লকডাউন জারি থাকবে এবং ওই এলাকার লোকজনকে বাড়িতেই অবস্থান করতে হবে। তবে প্রয়োজনীয় কাজে তারা বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাবেন বলে জানানো হয়েছে। লকডাউনের আওতায় অপ্রয়োজনীয় সব ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনোদন বন্ধ থাকবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানিয়েছেন, আগের করোনাভাইরাসের চেয়ে নতুন ধরনের ভাইরাসটির ৭০ শতাংশের বেশি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ধরনের এই ভাইরাস আগের ভাইরাসের চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত