মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আব্দা গ্রামে যৌতুকের টাকা না পেয়ে গরম পানি দিয়ে অনামিকা দেব নামে গৃহবধূর শরীর ঝলসে দিয়েছেন স্বামী সঞ্জিত কান্তি নাগ। এ ঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
গুরুতর আহত গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রোববার সকালে উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নের আব্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগের সুত্রে জানা যায়, যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন থেকে স্বামী ও তার পরিবার নির্যাতন করে আসছে ওই গৃহবধূকে। সর্বশেষ বাবার বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকার জন্য চাপ দেয় তারা। এতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার স্বামী গৃহবধূর শরীরে গরম পানি ঢেলে দেয়। এতে তার শরীরের অধিকাংশ জায়গা ঝলসে যায়।
অনামিকা জানান, সঞ্জিত কান্তি নাগ রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়িতে ঘর বানানোর জন্য যৌতুক দাবি করে। এক পর্যায়ে ছুটে এসে চুলা থেকে গরম পানির কেটলি তুলে শরীরে ঢেলে দেয়। পর আমি একা হাসপাতালে আসি।
তিনি জানান, ২০১৫ সালে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তার বাবার বাড়ি থেকে প্রাপ্ত গয়না বিক্রি করে স্বামীকে সিএনজি কিনে দিই। এরপরও বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য মারধর করতো নিয়মিত।
তিনি আরো জানান, তার ননদ লাকি রানী দে ও তার স্বামী আমার স্বামীকে সব সময় খারাপ পরামর্শ দিয়ে প্ররোচিত করতো আমাকে নির্যাতন করতে এবং আমার শাশুড়ি ও ভাসুর নির্যাতনে যুক্ত রয়েছেন।
তিনি পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান।
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল সুত্র জানায়, অনামিকা নিজেই হাসপাতালে ভর্তি হন। তার শরীরের বেশ কিছু অংশ পুড়ে গেছে, আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের চাওয়ার প্রেক্ষিতে, উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াছিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ থানায় এসেছে, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
