বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এ জন্য তারা উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। অথচ দেশের বাস্তবচিত্র উঠে এসেছে জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকে। তাতে দেখা গেছে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়াতে পঞ্চম, ভুটানেরও নিচে।’ গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএনডিপি প্রকাশিত মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনের বিষয় আলোকপাত করে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ বলা হচ্ছে যে, এই সরকার যথেষ্ট উন্নয়ন করেছে, তারা নিজেরাই নিজেদের উন্নয়নের রোল মডেল বলছে। অথচ আজ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে, ইউএনডিপি গত সোমবার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, গোটা এশিয়াতে কী অবস্থান, কোন কোন দেশের কী অবস্থায় আছে। তাতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়াতে পঞ্চম, ভুটানেরও নিচে।’
তিনি বলেন, ‘এখানেই বোঝা যায়, আসলে আমাদের উন্নয়নের কথা যেটা বলা হচ্ছে, এটা পুরোপুরিভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা ক্ষমতায় জোর করে টিকে থাকতে চায়।’
গত বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ইউএনডিপি গত ১৫ ডিসেম্বর যে ‘মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন-২০২০’ প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে, এবার ১৮৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১৩৩তম স্থানে। ২০১৮ সালে প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ১৩৫তম অবস্থানে ছিল। তার আগে ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রম ১৪২, ১৩৯ এবং ১৩৬তম স্থানে। অর্থাৎ ধীরগতিতে হলেও ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গত সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে প্রতিবেদনটির বাংলাদেশ অংশের মোড়ক উন্মোচন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ইউএনডিপির জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বালাজ হোবার্থ এবারের প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অগ্রগতি হলেও ২০১৯ সালের বাংলাদেশের মানব উন্নয়ন সূচকের মান ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আজ সব ক্ষেত্রেই সরকার স্বাধীনতার সমস্ত চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে দলীয়করণ করে নষ্ট করেছে, তারা অর্থনীতিকে একটা লুটপাটের অর্থনীতিতে পরিণত করেছে। সরকার পার্লামেন্টকে পুরোপুরি একটা অকেজো পার্লামেন্টে পরিণত করেছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিয়েছে। যার ফলে আপনারা দেখেছেন, বিশিষ্ট নাগরিকরা তাদের বক্তব্য রাখছেন, বলছেন এই নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না।’
