পঞ্চগড়ে গণসংযোগে হামলা, রামগঞ্জে সংঘর্ষ

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৪১ এএম

পঞ্চগড় পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্যসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুপুরে বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে।

গতকাল বুধবার দুপুরে ধানের শীষের প্রার্থী বর্তমান মেয়র তৌহিদুল ইসলাম মসজিদপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বুধবার দুপুরে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী পৌরসভার জালাশী হঠাৎপাড়া এলাকায় গণংসযোগ করার সময় পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ মজাহারুল হক প্রধানের নির্দেশে যুবলীগ কর্মী মনির, রাজুসহ কয়েক তরুণ লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিক ও আবদুর রাজ্জাক আহত হয়েছেন। এ সময় তারা ভোটারদের বাড়িঘরেও হামলা করে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হিমালয় বিনোদন পার্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংসদের নির্দেশ অনুযায়ী আজকে যুবলীগ-ছাত্রলীগ এই হামলা চালিয়েছে। নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার জন্য ক্ষমতাসীন দলটি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই ধানের শীষের প্রচারণায় বাধা, মাইক ভাঙচুর, মহিলা সভায় হামলাসহ ভোটারদের নানা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আগামী ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন বড় ধরনের গোলযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এসব বিষয় রিটার্নিং অফিসারসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ, কেন্দ্রীয় যুুবদলের সদস্য মো. রইসউদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিক, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল, সদস্য সচিব নুরুজ্জামান বাবু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের মাসুমসহ বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   

এ বিষয়ে কথা বলতে পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ মজাহারুল হক প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু তোয়বুর রহমান বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীকে ‘মহিলা’ বলায় নারী ভোটাররা ক্ষেপে গিয়েছিলেন। যুবলীগ-ছাত্রলীগের কেউ সেখানে ছিল না।

অপরদিকে, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের আহত হয়েছেন পাঁচ নেতাকর্মী। গতকাল বুধবার দুপুরে রামগঞ্জ পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ড রতনপুর স্টেশন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

ঘটনার ব্যাপারে বর্তমান কাউন্সিলর ও প্রার্থী মো. শাহাজাহান বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে একটি গ্রুপ এলাকায় মহড়া ও হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমার কর্মী-সমর্থকরা তার বাহিনীর হাতে রক্তাক্ত হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

কাউন্সিলর প্রার্থী মো. রাশেদ বলেন, বর্তমান কাউন্সিলর শাহাজাহানের লোকজনই লাঠিসোটা নিয়ে মিটিং চলাকালে আমার অফিসে হামলা চালায়।

রামগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর শোনার পর পুলিশ গিয়ে ধাওয়া দিয়ে দুইপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত