গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেই মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে। এর পরপরই প্রকাশ করা হয় ৫ অতিরিক্ত সচিবের সচিব পদে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মো. মোকাব্বির হোসেনের নাম বাদ পড়ে যায়। বাকি চারজনের নাম ঠিক রেখে একই স্মারকে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নাম পদোন্নতির তালিকায় প্রকাশের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিভিন্ন দপ্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মোকাব্বির হোসেন কঠোর নিয়মকানুনের মধ্যে বিমানকে পরিচালনা করেছেন। ট্রেড ইউনিয়নসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ড তিনি বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন। এ কারণে তার পদোন্নতির খবরে আগ্রহ দেখিয়েছেন বিমানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কারণ পদোন্নতি পেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব হওয়ায় তিনি বিমান থেকে বিদায় নেবেন এ কারণে সংশ্লিষ্টরা খুশি হয়েছেন। কিন্তু তাদের খুশির খবর কয়েক ঘণ্টা পরই হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। কারণ ততক্ষণে মোকাব্বিরের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে সংশোধনী এনে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। স্মারক নম্বর ঠিক রেখে নতুন প্রজ্ঞাপনে অপর চারজনের নাম ও মন্ত্রণালয়ের নাম বহাল রাখা হয়।
মোকাব্বির হোসেনের নাম বাদ পড়ার ঘটনাটি গতকাল ছিল প্রশাসনে অন্যতম আলোচ্য বিষয়। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়সহ দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন কার্যালয়ে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারসহ অনেকেই খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন কেন তার নাম পদোন্নতির তালিকায় এলো, আবার বাদই পড়ল কেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুইজন কর্মকর্তা তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. সেলিম রেজা। তিনি আগামী ৩০ ডিসেম্বর অবসরে যাবেন। সরকার সেলিম রেজাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়েই রাখতে চায়। সেলিম রেজা গত ৫ মে সচিব হিসেবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। এই পদে যোগদানের পূর্বে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা। তার কর্মজীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের সময় তিনি অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এসব কারণে সরকার তাকে সার্ভিসে রাখতে চায়। সেলিম রেজাকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে রাখতে গিয়ে মোকাব্বির হোসেনের নাম বাদ পড়ে। কিন্তু আগামী সপ্তাহেই মোকাব্বিরকে সচিব করা হবে এবং রেলপথ ছাড়া অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ৫ অতিরিক্ত সচিবের পদোন্নতির আদেশ আরও কয়েক দিন পর জারি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অতিউৎসাহে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনটি আগেভাগেই জারি করা হয়।
সচিব পদে পদোন্নতির তালিকা থেকে মো. মোকাব্বির হোসেনের নাম বাদ পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউসুফ হারুন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মোকাব্বির হোসেনকে বাদ দিয়ে যাদেরকে অতিরিক্ত সচিব থেকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তারা হলেন রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, মো. মোস্তফা কামাল, মো. মোকাম্মেল হোসেন ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের মধ্যে অর্থ বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাসকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যের পদটিও সচিব পদমর্যাদার। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তফা কামালকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদটিও সচিব পদমর্যাদার। ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী আগামী ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছেন। আর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব চালিয়ে আসা মো. মহিবুল হকের চুক্তির মেয়াদ আগামী ৫ জানুয়ারি শেষ হবে।
এদিকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান ভূমি সচিবের দায়িত্ব পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. খলিলুর রহমানকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের সিনিয়র প্লানার মাকসুদ হাসেমকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ দিতে তার চাকরি স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
