বছরব্যাপী অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানাবে বিএনপি

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৫৪ এএম

আগামী বছরের ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে বছরব্যাপী স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর কর্মসূচি শুরু করবে বিএনপি। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর কর্মসূচি সফল করতে দল ঘোষিত কমিটির শীর্ষ নেতারা এ কথা জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে নিজেদের মতো করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনা করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তার জবাব দেওয়া হবে বছরব্যাপী কর্মসূচিতে। মূলত মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরবে বিএনপি।

স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের দল, মুক্তিযুদ্ধের দল। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা কী ছিল তা জনগণের সামনে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। আমরা বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চেষ্টা করব মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের কথাগুলো জনগণকে স্মরণ করিয়ে দিতে।’ 

তিনি বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি; বরং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। আজকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে নিজেদের মতো করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস রচনা করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা শহীদ জিয়াকে খলনায়কে পরিণত করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তার নাম মুছে ফেলতে চাইছে। কিন্তু ক্ষমতায় থেকে জোর করে ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। জনগণ তা গ্রহণ করে না।’

গত ২২ নভেম্বর রবিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করবে বিএনপি। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়ে সারা বছর চলবে দেশজুড়ে। বিশে^র বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ। তাই ওই দিন থেকেই কর্মসূচি শুরু হবে। এ লক্ষ্যে ১৫টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি ও ১০টি বিভাগীয় কমিটি গঠন করেছে দলটি। কমিটিগুলো তাদের বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে, যা দিয়ে একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়াউর রহমান : মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের ওপর হঠাৎ করে আক্রমণ শুরু করে, তখন জিয়াউর রহমান তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।’

যুদ্ধের শেষ সময়ে জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে ১৪ ডিসেম্বর দিনব্যাপী যুদ্ধ করে সিলেট শহর দখলমুক্ত করেন। এ বিষয়ে জিয়াউর রহমানের তৎকালীন সহযোদ্ধা ও বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আমরা যুদ্ধ করে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে ১৪ ডিসেম্বর সিলেট দখল করি। দিনব্যাপী এই যুদ্ধে আমাদের কয়েকজন সেনা অফিসার শহীদ হন। এর মধ্যে সুবেদার ফয়েজ আহমেদ বীর বিক্রম অন্যতম। এর আগে ২৮ নভেম্বর আমরা সিলেটের জকিগঞ্জের গৌরীপুরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি। এই যুদ্ধে পাকিস্তানের পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ৮০ জন সেনা নিহত হয়। আমরা ২৬ জনকে জীবিত বন্দি করি। ওই যুদ্ধে ট্রেঞ্চে অবস্থান করা ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান শহীদ হন। এ সময় শহীদ জিয়া ও আমি একটি ট্রেঞ্চে অবস্থান করছিলাম। আমরা জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখে ঢাকা ফিরে আসি। স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানকে কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর ৪৪তম ব্রিগেডের কমান্ডার নিয়োগ করা হয়, যে ব্রিগেডের সদস্যরা তারই অধীনে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত