কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। করোনার কারণে ঘরেই বেশি থাকেন। এর মধ্যে সংগীত পরিচালনা, নতুন গানসহ নানা কাজও করছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
নতুন কাজ...
বন্ধু কবরীর পরিচালনায় ‘তুমি আছো তুমি নেই’ সিনেমার মাধ্যমে সংগীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছি এ কথা সবাই জানেন। লকডাউনে সেই গানগুলোর কাজই করেছি। তবে এখনো দুটি গানের রেকর্ডিং বাকি। অন্য গান দুটির একটি আমি, অন্যটি গেয়েছে ইমরান আর কোনাল। এ ছাড়া সম্প্রতি একটি ভিন্ন ধাঁচের গান করেছি সিডনি জামানের পরিচালনায় ‘প্ল্যানার’ সিনেমায়। এখন যাকে সবাই আইটেম গান বলে এটি সেভাবেই ব্যবহার হবে। তবে গানের কথা, সুর ও গায়কীতে গভীরতা আছে। দৃশ্যায়নেও শালীনতা বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।
হারানো সহকর্মীরা...
যাদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করতাম, তাদের অনেকেই আজ নেই। এ বছরই চলে গেছেন আজাদ রহমান, আলাউদ্দীন আলী, এন্ড্রু কিশোর। কিংবা তার আগে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। সবাইকেই প্রতিনিয়ত মিস করি। গুণী সুরকার আজাদ রহমান ভাই, তার সুরে অনেক গান করেছি। আলাউদ্দীন আলী সম্পর্কে আমি বলি, পাক-ভারত উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুরকার। তিনি যেখানেই হাত দিয়েছেন, সেটাই সোনা হয়ে গেছে। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের তো তুলনাই নেই। বিশেষ করে দেশের গান বললেই আমার কাছে বুলবুল প্রথম। এন্ড্রু কিশোরের কথা তো বলে শেষ করতে পারব না। শেষ নয়টা মাস তার কাছাকাছিই ছিলাম। প্রতিদিনই ফোনে কথা হতো। সিঙ্গাপুরের হাসপাতাল, ডাক্তার ঠিক করে দেওয়া থেকে তাকে সেখানে পাঠানো, সব বিষয়ে সহযোগিতা করেছি। সৈয়দ আবদুল হাদী ভাই, মিতালি সিং ও আমি সিঙ্গাপুরে গিয়ে কিশোরের জন্য অনুষ্ঠান করেছি। ভেবেছিলাম কিশোর ফিরে আসবে, কিন্তু এলো না। হোয়াটসঅ্যাপে কিশোরের হাজার হাজার ক্ষুদে বার্তা। না পারছি পড়তে, না পারছি মুছতে। মনে করলেই খুব মন খারাপ হয়।
প্রাপ্তির ঝুলি...
১৯৮৪ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পদক পেয়েছি। সর্বোচ্চ ১৪ বার সেরা গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। সংগীতের জন্য ডক্টরেট ডিগ্রিও লাভ করেছি ১৯৮৪ সালে। প্রাপ্তির ঝুলি পরিপূর্ণ। তবে অপূর্ণতা এই যে আমরা গান করছি, এই গানের পেছনে যাদের শ্রম, তারা গানের রয়্যালটি পাচ্ছি না। গানগুলো এখন বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে যেমন তেমন ভাবে ব্যবহার হচ্ছে। অথচ এই গানগুলোর গীতিকার, সুরকার, শিল্পী তাদের ন্যায্য রয়্যালটি পাচ্ছেন না। আমি মনে করি, রয়্যালটি আমাদের অধিকার। রয়্যালটি আমাদের দিতেই হবে। সরকারি উদ্যোগ বা পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এটা সম্ভব নয়। আইন করে দেওয়া দরকার। যে প্রক্রিয়ায় রয়্যালটি নিশ্চিত হবে, সেটি আইন করে পাস করিয়ে দিতে হবে। তাহলেই একটি গানের পেছনে যাদের শ্রম, সবাই সেই দামটা পাবেন।
