নীলফামারীতে বঙ্গবন্ধুর নামে অস্তিত্বহীন বিশ্ববিদ্যালয়

সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ইউজিসি

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:২২ এএম

নীলফামারীর সৈয়দপুরে তথাকথিত ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য তালিকায় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গণিত বিভাগের এক শিক্ষকের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। সহকারী অধ্যাপক পদের ওই শিক্ষকের নাম মো. মশিউর রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়েই বইছে সমালোচনার ঝড়। এছাড়া ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ইউজিসির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান গত সোমবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে তথাকথিত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে আইন অনুযায়ী কেউ এমন লাভজনক প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারেন না, তার ওপর এমন অবৈধ একটি প্রতিষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জড়িত থাকা অনৈতিক। এ বিষয়ে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে সৈয়দপুরের বাইপাস এলাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি তথাকথিত বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। অধ্যাপক ড. এবিএম শরিফুজ্জামান শাহ উদ্যোক্তা হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠা করে নিজেই ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব নেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য জাতীয় সংসদের মহিলা সাংসদ রাবেয়া আলীমকে সভাপতি করে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। ট্রাস্টি বোর্ডে ১২ সদস্যের মধ্যে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিদের সঙ্গে বেরোবির গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমানকে চার নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি অদৃশ্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে তা সরকার ও ইউজিসির নজরে আসে এবং অবৈধ এ কর্মকা-ের বিষয়ে সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি হতে কখনই অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এমনকি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও অনুমোদনের নিমিত্তে কোনো প্রকল্প প্রস্তাবও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কমিশনে পাওয়া যায়নি।

এদিকে অবৈধ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের তালিকায় নাম এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ বিভিন্ন ছবিতে মশিউর রহমানকে দেখা গেলেও এর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’ তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ছবিতে তাকে কেন দেখা যাচ্ছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

যোগাযোগ করা হলে ট্রাস্টি বোর্ডের অন্য সদস্য সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু জানান, বেরোবির শিক্ষক মশিউর রহমানসহ কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে আছেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারা ভঙ্গ করে নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক হয়েছেন গণিত বিভাগের এই শিক্ষক। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করেও বেরোবি কর্র্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত