চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন: ৭৩৫ কেন্দ্রে ভোটার ১৯ লক্ষাধিক

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০৪ এএম

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৭ জানুয়ারি। এই নির্বাচনে পূর্বঘোষিত তফসিলে ভোটার ছিল ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৫২ জন। সেখান থেকে ১২ হাজার ৩৪৬ জন ভোটার মাইগ্রেশন আবেদন করে অনত্র স্থানান্তর হওয়ায় বতর্মানে ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬। তাদের ভোটাধিকারের জন্য নগরীর ৭৩৫টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৮৮৬টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন অফিস।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে করোনার কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের জন্য ৭৩৫টি ভোটকেন্দ্র  চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবার নির্বাচনে ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

তিনি আরও বলেন, পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। করোনার কারণে গত ২৯ মার্চ যেখান থেকে নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল, সেখান থেকেই পুনরায় নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম চলবে। তবে এই করোনাকালে চসিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চার ওয়ার্ডের চারজন প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন। শুধু সেই চারটি ওয়ার্ডের জন্য নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব ওয়ার্ডে ৮ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এসব মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই করে চ‚ড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

চট্টগ্রাম জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশন গত ২ মার্চ হালনাগাদ শেষে চ‚ড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল। চূড়ান্ত তালিকা অনুসারে চসিক নির্বাচনের ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছিল। প্রথমে তফসিল ঘোষণার সময় নগরীর ভোটার ছিল ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৫২ জন।  পরে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পরবর্তী সময়কালে মাইগ্রেশন বা স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়ায় বর্তমান ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ ও নারী ভোটার ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন। নির্বাচনে এসব ভোটারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩৫টি ভোটকেন্দ্র। এর মধ্যে ৭৩৩টি স্থায়ী ও দুটি অস্থায়ী কেন্দ্র। ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৮৬টি। এর মধ্যে স্থায়ী ভোটকক্ষ ৪ হাজার ১২২টি ও অস্থায়ী কক্ষ ৭৬৪টি।

ভোটার কমে যাওয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগে অনলাইনে ভোটার মাইগ্রেশনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা আবেদনের মাধ্যমে নিজ বা সুবিধামতো জেলায় তাদের মাইগ্রেশন করে নিয়েছেন। তাই আগের ভোটার তালিকা থেকে ১২ হাজার ৩৪৬ জন ভোটার কমে বর্তমান নগরীর ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬।

স্থগিত হওয়ার আগে তফসিল অনুযায়ী চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ (এম রেজাউল করিম চৌধুরী) ও বিএনপি (ডা. শাহাদাত হোসেন) মনোনীত একক প্রার্থীসহ মেয়র পদে ৬ জন এবং নগরীর ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৬১ জন ও ১৪টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫৬ জন প্রার্থী ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র প্রার্থীসহ মোট ২২৩ জন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীকে চসিক নির্বাচনের জন্য প্রতীকও বরাদ্দ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

এদিকে, নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর করোনায় যারা মারা গেছেন, তারা হলেন চসিকের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হোসেন মুরাদ, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড (১৭, ১৮ ও ১৯) কাউন্সিলর প্রার্থী সাহিদা বেগম পারভীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত