মহামারির সময়েও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজিরবিহীন ঘটনা: আসক

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৩২ পিএম

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলেছে, মহামারির সময়েও মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব ঘটনা ঘটেছে তা নজিরবিহীন।

বৃহস্পতিবার ভার্চ্যুয়ালি আয়োজিত সেমিনারে আসক ২০২০ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে এ তথ্য প্রকাশ করে।

দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে নিজস্ব তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে এক প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে সংস্থাটি জানায়। 

আসকের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির ও সহকারী সমন্বয়কারী অনির্বাণ সাহা ওই সেমিনারে মানবাধিকার–সংক্রান্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন। 

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হয়রানিমূলক মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বেড়েছে। এ বছর ১২৯ মামলায় ২৬৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসক জানায়, বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যা বন্ধে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বারবার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা কমেনি। ২০২০ সালে তাদের গুলিতে ৪২ জন এবং শারীরিক নির্যাতনে ৭ জনসহ মোট ৪৯ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আগের বছর ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৩।

আসকের তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে সারা দেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৬২৭ নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ–পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৫৩ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ১৪ জন। ২০১৯ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন মোট ১ হাজার ৪১৩ জন নারী। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৩২।

আসক বলেছে, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে এ বছরও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। বরং ‘বৈশ্বিক আইনের শাসনের সূচকে’ গত বছরের তুলনায় ৩ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ১১৫তম অবস্থানে রয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দ্য ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট।

আসকের নির্বাহী কমিটির মহাসচিব নূর খান লিটন বলেন, দেশে মহামারির সময়ও যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে তা নজিরবিহীন। সামনের বছরটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সুন্দর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আসকের জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক নিনা গোস্বামী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার স্বাগত বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত