চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও ডাম্পারের (পিকআপ) মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ডাম্পার চালক ও হাসপাতালে নেওয়ার পর একই গাড়ির শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বরইতলী মাদ্রাসা গেট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়ার শফিউল আব্বাসের ছেলে ডাম্পার চালক মোহাম্মদ মানিক (২৬) ও শ্রমিক মো. তারেকুল ইসলাম বাবু (২২)। বাবু মুরারপাড়ার শাহাব উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বান্দরবানের লামা থেকে চট্টগ্রামমুখী সৌদিয়া পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস (ঢাকামেট্টো-ব-১৪-২০৭৫) ও কক্সবাজারের পেকুয়া থেকে মাটিভর্তি ডাম্পার (চট্টমেট্টো-অ-১১৬) গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি গাড়িই দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি মহাসড়ক থেকে খাদে ছিটকে পড়ে।
এ সময় মহাসড়কের উভয়দিকে প্রায় আধঘণ্টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। মহাসড়কের চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত ডাম্পার গাড়িটি ক্রেন দিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আহতরা হলেন- সৌদিয়ার যাত্রী বান্দরবানের লামা উপজেলার জয়ন্তু বড়ুয়ার কন্যা নিশীথা বড়ুয়া (১৮), স্বপন বড়ুয়ার ছেলে অতুল বড়ুয়া (২২), মৃত দুদু মিয়ার স্ত্রী সফুরা খাতুন (৭০) ও অংহা মংয়ের ছেলে হাচিং মং (২৪) এবং পেকুয়ার দক্ষিণ মেহেরনামা বলিরপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের আবু বক্করের ছেলে মমতাজ আহমদ (২৮)।
মমতাজকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আহত অন্যান্যদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চকরিয়ার বানিয়ারছড়াস্থ চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনিছুর রহমান জানান, সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় দুজন মারা গেছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও পাঁচ যাত্রী।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
