বিএনপি নেতাদের নেতিবাচক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শেখ রাসেল অনূর্ধ্ব-১১ চ্যালেঞ্জ কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
‘ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না, সংগ্রাম করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ বক্তব্য প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির নেতারা প্রতি বছরের শুরুতেই এ কথাটি বলেন। আমাদের হটিয়ে বাংলাদেশে তারা ক্ষমতায় আসবেন। আসলে উদ্দেশ্য তা নয়, উদ্দেশ্য হচ্ছে সব সময় গণ্ডগোল পাকানোর এবং সেই গণ্ডগোলের মধ্যে তাদের পানি ঘোলা করে সেখানে মাছ শিকার করার অপচেষ্টা। তাদের এই হুমকি-ধমকি অপচেষ্টা এবং ষড়যন্ত্রের মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে।’
২০২১ সালের প্রথম দিনে দেশবাসীর পাশাপাশি বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালে আমরা পৃথিবীর মানুষ স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারিনি, নতুন বছরে মহান আল্লাহর কাছে আমার প্রার্থনা হচ্ছে নতুন বছরে যাতে খুব সহসা আমরা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারি, আবার আগের পৃথিবীতে ফেরত যেতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা থাকবে বিএনপি এত দিন ধরে যে নেতিবাচক রাজনীতি করে এসেছে, মানুষকে জিম্মি করার রাজনীতি করে এসেছে, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার রাজনীতি করে এসেছে, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করে এসেছে, সেটি থেকে বেরিয়ে এসে ইতিবাচক রাজনীতির ধারায় তারা ফেরত আসবে।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শিশু-কিশোররা যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির মধ্যে নিমজ্জিত হচ্ছে, এটি তাদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে বিরাট প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তারা যাতে সঠিকভাবে বিকশিত হতে পারে, তাদের মনন ও মেধা বিকশিত হতে পারে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা হতে পারে, সে জন্য কিন্তু খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবার ক্রীড়ামোদি ও সংস্কৃতিমনা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে। তার হাত ধরেই আমাদের নারী যুব ক্রিকেট দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু নিজেও খেলোয়াড় ছিলেন, তিনি ফুটবল খেলতেন। বঙ্গবন্ধু যখন স্কুলে পড়তেন, তখন তার বাবার নেতৃত্বে টিম আর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে টিমের মধ্যে খেলা হয়েছিল, সেই খেলায় বঙ্গবন্ধুর টিম বাবার টিমকে হারিয়ে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্র শেখ কামাল ও শেখ জামাল খেলোয়াড় ছিলেন। শেখ কামালের নবপরিণীতা বধূ সুলতানা কামাল ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ব্লু ছিলেন। তিনি বিশ^বিদ্যালয়ের সেরা নারী ক্রীড়াবিদ ও অ্যাথলিট ছিলেন।’
শেখ রাসেলের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। এতে ১০টি দল অংশ নেয়। প্রতিটি দলের নামকরণ করা হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে নিহতদের নামে। গতকাল ফাইনালে ‘শেখ ফজলুল হক মণি ক্রিকেট একাদশ’ চ্যাম্পিয়ন ও ‘সুলতানা কামাল ক্রিকেট একাডেমি’ রানার্স আপ হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমন আল মাহমুদ, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি আলী আব্বাস।
