বিয়ে হয়েছিল তিন মাস আগে। সংসারও চলছিল ভালোই। সুখের সংসারে মাত্র তিন মাস পরেই নববধূর কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে পুত্রসন্তান। কিন্তু বিয়ের তিন মাসের ব্যবধানে সন্তান প্রসবের ঘটনায় এই নারীর শ্বশুরবাড়ির সব সদস্যের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। তাদের মনে দেখা দেয় নানা প্রশ্ন। এমনই ঘটনা ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ভিমরুল্লা মহল্লায়। আর ওই নববধূকে নবজাতকসহ হাসপাতালে ভর্তির পর বিষয়টি জানাজানি হলে তা আলোচনার জন্ম দেয় শহরজুড়ে। তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। একপর্যায়ে হাসপাতালের শয্যায় কাতরাতে থাকা ওই তরুণীর হাতে পৌঁছায় স্বামীর দেওয়া ডিভোর্সের চিঠি। তালাকের পর হাসপাতালেই প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই তরুণীকে। গত রবিবার দুপুরে তালাকের পর রাত ১১টায় প্রেমিককে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে এ বিয়ে পড়ানো হয়।
জানা যায়, তিন মাস আগে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ভিমরুল্লা গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের এক তরুণীর (১৮) বিয়ে হয়। গত শনিবার রাতে শ্বশুরবাড়িতেই একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে ওই তরুণী। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে তরুণীর পরিবারকে জানায়। সেই রাতেই তরুণীর পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। নবজাতক ও মা দুজনই হাসপাতালে ভর্তি হলে রবিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। নববধূর সন্তান প্রসবের খবর দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে শহরের আনাচে-কানাচে। এ ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্টি হয় নানা আলোচনা-সমালোচনার। আর হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তরুণীকে রবিবার সকালেই তালাকনামা পাঠায় স্বামী। তালাকের পর রাত ১১টার দিকে কয়রাডাঙ্গা গ্রামের একাদশ শ্রেণিপড়ুয়া প্রেমিকের সঙ্গে পুনরায় বিয়ে দেওয়া হয় ওই তরুণীর।
নববধূ তরুণীর বাবার অভিযোগ, তার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ডেকে এনে তাদেরকে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়। একপর্যায়ে তালাকনামা নিয়ে এসে তার মেয়ের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তরুণীকে তালাকনামা পাঠানো স্বামীর বড় ভাই দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জন্ম দেওয়া সন্তান আমার ভাইয়ের নয়। আমরা কেন ওই সন্তানের দায়ভার নেব। তাই আমরা বাধ্য হয়ে তালাকনামা পাঠিয়েছি।’
নববধূ তরুণী জানায়, কয়রাডাঙ্গা গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের আগে থেকেই ওই যুবকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতাও ছিল।
