উজি পিস্তল আমদানিকারক ছয় প্রতিষ্ঠান ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। কারণ পয়েন্ট টু টু বোরের রাইফেল ঘোষণা দিয়ে পয়েন্ট টু টু বোরের সেমি অটোমেটিক উজি পিস্তল আমদানি করে আগ্নেয়াস্ত্র আমদানিকারক এসব প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবহারকারীরা আইন অমান্য করেছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, পয়েন্ট টু টু বোরের একটি উজি পিস্তলের ম্যাগাজিনে ২০টি গুলি রাখা যায়। এটি জনসাধারণের জন্য ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। কাজেই এ ধরনের অস্ত্র আমদানি, বিক্রয় ও ব্যবহারকারীদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিঙ্গেল শটের পয়েন্ট টু টু রাইফেল ঘোষণা দিয়ে উজি পিস্তল আমদানি করে কিছু প্রতিষ্ঠান। এ সংক্রান্ত বিশদ তদন্ত করা হয়। বেশকিছু সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এখন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যে ধরনের নির্দেশনা পাঠাবে সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেখানে ১৫ বুলেটের পিস্তল ব্যবহার করে থাকেন সেখানে জনসাধারণের জন্য ২০টি গুলির এ পিস্তল খবুই বিপজ্জনক। এ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র খুব সহজেই সন্ত্রাসী বা জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। কিছু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে উজি পিস্তল নিয়ে আসে পয়েন্ট টু টু বোরের রাইফেল নাম দিয়ে। ক্রেতাদের কাছে বিক্রিও করা হয়েছে। এতে উভয়পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্রের নীতিমালা ভঙ্গ করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দ্য আর্মস অ্যাক্ট-১৮৭৮ অনুযায়ী অস্ত্র আমদানিকারক ও ক্রেতারা লাইসেন্স বা অনুমোদনবহির্ভূত কোনো অস্ত্র আমদানি বা ক্রয়-বিক্রয় করলে আইন মোতাবেক যাবজ্জীবন অথবা ন্যূনতম ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দন্ডিত হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, দেশের ৮৪টি লাইসেন্সধারী বৈধ অস্ত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার মধ্যে রাজধানী ঢাকায় আছে ৩২টি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অস্ত্র আমদানি করে থাকে।
বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো ওই ১৪ প্রতিষ্ঠান থেকে অস্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যবসা করে থাকে। উজি পিস্তল ও উজি রাইফেল আমদানি, বিক্রয়, মজুদকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এমএইচ আর্মস কোং, মঈন আর্মস কোং, আহম্মদ হোসেন আর্মস কোং, মেসার্স তোফাজ্জল হোসেন, কে আহমদ আর্মস অ্যান্ড কোং, শফিকুল ইসলাম আর্মস অ্যান্ড কোং। এ প্রতিষ্ঠানগুলো পয়েন্ট টু টু বোরের ৯১টি উজি পিস্তল আমদানি করে। যার মধ্যে ৪৯টি বিক্রি করে দেয়। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানগুলো ২০টি পয়েন্ট টু টু বোরের রাইফেল আমদানির পর ১৬টি বিক্রি করে।
২০১৪ সাল থেকে টু টু বোরের রাইফেল ঘোষণা দিয়ে ৯১টি উজি পিস্তল আমদানি করে কতিপয় ছয়টি প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে ৪৯টিই তারা বিভিন্ন লাইসেন্সধারী অস্ত্র ব্যবহারকারীর কাছে বিক্রি করে দেয়। এসব অস্ত্র ব্যবহারকারীর মধ্যে রয়েছেন সাংসদ, ক্ষমতাসীন দলের নেতা, ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অস্ত্র আমদানিকারক। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিবির কর্মকর্তারা জানান, গত অক্টোবর মাসে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একটি দল দীর্ঘ তদন্ত শেষে একটি প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠায়। তারও আগে ২০ আগস্ট ডিবির একটি দল রাজধানী থেকে মিনার শরীফ নামে এক মাদক কারবারির কাছ থেকে প্রথম এ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। তারপরই মূলত এ অস্ত্রের বিষয়ে গোয়েন্দারা বিশদ তদন্তে নামেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই তদন্ত প্রতিবেদনে অস্ত্র আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আটটি সুপারিশ করা হয়।
