চলতি বছরের সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যু

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৩:২২ এএম

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হঠাৎ বেড়েছে। নতুন বছরের প্রথম ছয় দিন টানা হাজারের কম করে রোগী শনাক্তের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তম দিন হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে গত ১৭ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩১ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। এর আগে সর্বশেষ গত ২১ ডিসেম্বর ২৪ ঘণ্টায় এরচেয়ে বেশি ৩২ রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। এদিন মৃতদের মধ্যে ১৮ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং ২৫ জনের বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যু ৭ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ হাজার ৭ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্ত কিছুটা বাড়লেও শনাক্তের হার তেমন বাড়েনি। তবে আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে। ১৫ হাজারের বেশি পরীক্ষায় এদিন ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের দিন বুধবার রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ হারে, যা ছিল গত ৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম শনাক্তের হার। এ নিয়ে গত টানা তিন দিন সাত শতাংশের কম করে রোগী শনাক্ত হয়েছে।

গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ৩০৬তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ১৮১টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৭টি জিন-এক্সপার্ট, ৪০টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন এবং বাকিগুলো আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৫ হাজার ৬৩৪টি নমুনা সংগৃহীত হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৩৮১টির। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৯৬৬ রোগী সুস্থ হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ৩৩ লাখ ১৭ হাজার ৮১০টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ১৯ হাজার ৯০৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৭ হাজার ৭১৮ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৬ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৮ ও সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২১ ও নারী ১০ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৮, চট্টগ্রামে ৬, রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহে ২ জন করে এবং বরিশালে ১ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ২০, ৫১-৬০ বছরের ৫, ৪১-৫০ বছরের ২, ৩১-৪০ বছরের ২, ২১-৩০ বছরের ১ এবং ১১-২০ বছরের ছিল ১ জন। ২৯ জন মারা গেছে হাসপাতালে এবং দুজন বাড়িতে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৮৬৭ ও নারী ১ হাজার ৮৫১ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ০২ ও নারী ২৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২৫০ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪২৬, খুলনায় ৫৩৮, রাজশাহীতে ৪৪৫, রংপুরে ৩৫০, সিলেটে ২৯৪, বরিশালে ২৩৯ এবং সর্বনিম্ন ১৭৬ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৫ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৫৭২ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১১ হাজার ২৫৬ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৮ হাজার ৩৪৪ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৪৪৫টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ১৪৯টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৬০২টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ২৫৮টিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত