হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতে অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) রেড নোটিস জারি করেছে। গতকাল শুক্রবার পুলিশের সহকারী উপমহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্টার ব্যুরো (এনসিবি) অর্থাৎ ইন্টারপোলের ঢাকা শাখার অনুরোধে সংস্থাটি এই রেড নোটিস জারি করে। তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশের ইন্টারপোল শাখা থেকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও সাপোর্টিং এলিমেন্টসসহকারে ইন্টারপোল সদর দপ্তরে আবেদনটি পাঠানো হয়। ইন্টারপোলের একটি বিশেষ কমিটি আমাদের আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত ডকুমেন্টস ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আবেদনটি অনুমোদন করে। ইন্টারপোলের কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশের পাশাপাশি সারা বিশ্বে বিভিন্ন দেশে ইন্টারপোলের শাখাগুলোয় প্রেরণ করা হয়েছে এই রেড নোটিস। এটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য জারি থাকবে। তবে প্রয়োজনে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়াদ নবায়নযোগ্য।
এআইজি সোহেল রানা জানান, রেড নোটিসে পলাতক আসামি প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা দুর্নীতি দমন আইন, ২০০৪-এর ২১(১) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট একটি স্বপ্রণোদিত আদেশে জানতে চেয়েছিলেন, পি কে হালদারকে বিদেশ থেকে ফেরাতে এবং গ্রেপ্তার করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হালদার একটি লিজিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়েছেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যখন আলোচনা শুরু হয়, তখনই তিনি বিদেশে পালিয়ে যান।
পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পলাতক পি কে হালদারের অবস্থান কোন দেশে, সেটি নিশ্চিত না হওয়ায় বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। এইে পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তাদের ওয়েবসাইটে পলাতক হালদারের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতে অভিযুক্ত পলাতক পি কে হালদারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ২৫ জন ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে উচ্চ আদালত। তাদের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর মা, অন্যান্য আত্মীয়স্বজন এবং তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন। পি কে হালদার গত বছর বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তিনি কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মালিক ছিলেন আরও নানা বেসরকারি উদ্যোগের। ব্যাংকবহির্ভূত চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে হালদারের বিরুদ্ধে।
