ঢাবিতে পিএইচডি অভিসন্ধর্ভের সংরক্ষণ কীভাবে: জানতে চায় হাইকোর্ট

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:৪৯ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণার থিসিস (অভিসন্দর্ভ) কীভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং এটি মূল্যায়নে কোনো উন্নত তথ্য প্রযুক্তি বা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় কি না কা জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত।

আদেশের দুই মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের পিএইচডি গবেষণার ৯৮ শতাংশ নকল নিয়ে গত বছরের ২১ জানুয়ারি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান লিংকন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯৮ শতাংশ হুবহু নকল পিএইচডি থিসিসের (অভিসন্দর্ভ) মাধ্যমে ২০১৫ সালে ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবুল কালাম লুৎফুল কবীর। ২০১২ সালে রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী-গবেষকের জমা দেওয়া একটি ‘স্টুডেন্ট পেপারস’-এর সঙ্গে লুৎফুল কবীরের নিবন্ধের ৯৮ শতাংশ হুবহু মিল রয়েছে। এটিসহ মোট ১৭টি জার্নাল, আর্টিকেল ও গবেষণাপত্রের সঙ্গে নিবন্ধটির বিভিন্ন অংশের উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া গেছে, যেগুলোর সবই লুৎফুল কবীরের অভিসন্দর্ভের আগে প্রকাশিত হয়েছে।

শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ও সমমানের ডিগ্রি কীভাবে অনুমোদন করা হয়, তা খতিয়ে দেখে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে ইউজিসিকে (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) নির্দেশ দেয়।

এ ছাড়া ঢাবির শিক্ষকের গবেষণা জালিয়াতির বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ইউজিসি আদালতে প্রতিবেদন দেয়। গত বছরের ২৮ জুনয়ারি ঢাবির উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় আবুল কালাম লুৎফুল কবীরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি করা হয়।

দেশে করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে তদন্ত কাজ এখনো শেষ হয়নি এবং ওই শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। এর মধ্যে হাইকোর্ট দুই মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী মনিরুজ্জামান লিংকন।

ইউজিসির দাখিলকৃত প্রতিবেদনের বরাতে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার দেশ রূপান্তরকে বলেন,  ‘দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব আইন, বিধি ও নীতিমালা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এমফিল ও পিএইচডিসহ উচ্চতর ডিগ্রি দেয়। তবে, এ বিষয়ে ইউজিসির কোনো ভূমিকা নেই। এ ছাড়া দেশে সরকার অনুমোদিত ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হলেও ইউজিসি এখন পর্যন্ত কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যদি কেউ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল বা পিএইচডি গবেষণা করে থাকেন তাহলে সেটি অবৈধ হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত