পশ্চিমবঙ্গের নাট্যকার ও পর্যটনমন্ত্রী ব্রাত্য বসু পরিচালিত ‘ডিকশনারি’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের সিনেজগতে নাম লেখান মোশাররফ করিম। গত বছরের ৭ মার্চ কলকাতায় শ্যুটিংয়ে অংশ নেন তিনি। শ্যুটিং শেষ করে ১৬ মার্চ ঢাকায় ফেরেন তিনি। এরপর একই বছর ডিসেম্বরের শুরুতে ছবির ডাবিংয়ে অংশ নিতে আবারও কলকাতা গিয়েছিলেন মোশাররফ। তখনই ছবির কাজ পুরোপুরি শেষ হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে ‘ডিকশনারি’। একটি পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নুসরাত জাহান বলেছেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে এটি। ছবি হলে মুক্তি পেলেই ভালো লাগে। তার ওপর ১০০ শতাংশ আসন যদি ভর্তি হয়ে যায়, তারচেয়ে ভালো আর কী হতে পারে?’
মোশাররফ করিম এ বিষয়ে বলেন, ‘শুনেছি ফেব্রুয়ারিতে ছবিটি মুক্তি পাবে। কলকাতায় এটাই আমার প্রথম ছবি। সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় আমিও রয়েছি। বিশেষ করে ওপার বাংলার দর্শকরা কীভাবে আমাকে গ্রহণ করে তা দেখার জন্যও মুখিয়ে আছি।’
ডাবিং করার অভিজ্ঞতা জানিয়ে মোশাররফ বলেন, ‘শ্যুটিংয়ের পর থেকেই চাপা উত্তেজনায় ভুগছিলাম। কেমন হচ্ছে ‘ডিকশনারি’? কবে দেখব? ডাবিং করতে গিয়ে দেখলাম বেশ ভালো হয়েছে ছবিটা। প্রথম দৃশ্য থেকেই জমে গেছে গল্পটা। আমি তৃপ্ত। এবার পর্দায় আসতে যাচ্ছে। আশা করছি, দর্শকদেরও পছন্দ হবে সিনেমাটি।’
মোশাররফ জানান, এই সিনেমায় সম্পর্কের ব্যবধান উঠে আসবে। সিনেমায় মোশাররফ করিমকে মকর নামের চরিত্রে দেখা যাবে। একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। তার ছেলে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে। ছেলের সঙ্গে বাবার দ্বন্দ্ব নিয়েই ছবির গল্প। ছবিতে মোশাররফ করিমের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন পৌলমি দাস। বুদ্ধদেব গুহর দুটি ছোটগল্প ‘বাবা হওয়া’ ও ‘স্বামী হওয়া’ অবলম্বনে ছবিটির চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে। এর চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন উজ্জ্বল চ্যাটার্জি। ব্রাত্য বসু পরিচালিত এই সিনেমায় মোশাররফ করিম ছাড়াও অভিনয় করেছেন কলকাতার নুসরাত জাহান, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।
শুধু কলকাতার সিনেমা নয়, গত বছরের নভেম্বরে এই অভিনেতা অভিনয় করেন ২০১৯-২০ অর্থবছরে অনুদান পাওয়া সিনেমা ‘গাঙকুমারি’তে। এটি পরিচালনা করছেন ফজলুল কবীর তুহিন। ভাটি অঞ্চলের জেলেজীবন নিয়ে নির্মিতব্য এই সিনেমাটিতে খলচরিত্রে অভিনয় করছেন মোশাররফ করিম। সিনেমাটি নিয়ে মোশাররফ করিম বলেন, ‘সিনেমার গল্পটি চমৎকার। নতুন আঙ্গিকের চরিত্র ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি সব সময় উপভোগ করি।’
অভিনেতা জানালেন, সম্প্রতি বেশ কিছু নাটক, টেলিফিল্ম, ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছেন।
মোশাররফ বলেন, ‘ভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে আমাদের দেশে প্রচুর কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। ভিন্ন স্বাদের কাজ করতে পেরে আমারও ভালো লাগছে। এর মধ্যে সঞ্জয় সমাদ্দারের ওয়েব ফিল্ম ‘অমানুষ’, সোহেল হাসানের ‘ইহার চেয়ে উহাই উত্তম’, মুরসালিন শুভর ‘চরিত্র’তে কাজ করে ভালো লেগেছে।’
মোশাররফ করিমের ভিন্নধর্মী কাজগুলো দর্শকরাও লুফে নিচ্ছেন। আশাবাদী হয়ে উঠছেন তার ভক্তরাও। ওদিকে ওপার বাংলার পরিচালক ব্রাত্য বসুও মোশাররফের ভেতর দেখছেন অপার সম্ভাবনা। ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্রাত্য বসু বলেন, ‘আমার তো মনে হয় মোশাররফ করিম বাংলা ছবির ক্ষেত্রে একটা বড় আবিষ্কার হতে চলেছে। বাংলাদেশের স্টার তিনি। এ ছবিতে অসামান্য কাজ করেছে।’
