এবারও নেই ইলেকট্রনিক টাইমার, ফটো ফিনিশ ক্যামেরা। দেশের সর্বোচ্চ অ্যাথলেটিক্স আসরে নেই কোনো স্পন্সরও। করোনাকালে অংশগ্রহণ নিয়েও নেই বাড়তি আগ্রহ। তার ওপর তিনদিনের মিট আয়োজনের জন্য বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের একক বরাদ্দও নেই। অনেক নেইয়ের মধ্যে আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু ৪৪তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের বিপজ্জনক অ্যাথলেটিক ট্র্যাকে তিনদিনের এই আসরটি হতে যাচ্ছে দায়সারা গোছের।
ইলেকট্রনিক টাইমার একটা বড় আক্ষেপ হয়ে আছে অ্যাথলেটিক্সে। ২০১০ এসএ গেমসের আগে চড়া মূল্যে কেনা সরঞ্জামাদি গেমসের পর সেভাবে ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও কেবল ফেডারেশনের অবহেলায় ধুলো জমেছে অত্যাধুনিক যন্ত্রে। ফেডারেশনের গোডাউন থেকে খোয়াও গিয়েছে ল্যাপটপ, স্টার্টিং গানসহ অনেক কিছু। যার হদিস মেলেনি এখনো। তারপরও বছর দুই আগে ফেডারেশন উদ্যোগী হয়ে ইলেকট্রনিক টাইমার ও ফটো ফিনিশ ক্যামেরা ব্যবহার করে আয়োজন করেছিল জাতীয় অ্যাথলেটিক্স। গতবারই ঘটে ছন্দপতন। আগ্রহে ভাটা পড়ে। তাতেই অ্যাথলেটিক্স ফিরে যায় সনাতনী হ্যান্ড টাইমিংয়ে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকীব মন্টু ইলেকট্রনিক টাইমিংয়ে মিট আয়োজন না করার দায় চাপিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ওপর, ‘এসব সামগ্রী ব্যবহার করার মতো দক্ষ জনবল আমাদের নেই। দক্ষ জনবল গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের নয়। কেবল যন্ত্র কিনে দিলেই হবে, সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলও দিতে হবে।’ জাতীয় মিটের জন্য ফেডারেশন প্রস্তাবিত বাজেট ধরেছে ১৯ লাখ টাকা। মন্টু জানালেন, ইলেকট্রনিক টাইমার ব্যবহার করলে গোটা বাজেটের বেশি খরচ করতে হবে, যা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। মুজিববর্ষের তালিকায় থাকা এই আসরটি ফেডারেশন নিজস্ব তহবিল দিয়ে আয়োজন করছে। ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু কারও কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাইনি। তাই অন্য খাতের অর্থ দিয়ে এই আসর করছি। এবার ক্রীড়াবিদদের উৎসাহ দিতে আমরা একটা প্রাইজমানিও রেখেছি। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় যথাক্রমে ৩ হাজার, ২ হাজার ও ১ হাজার টাকা পাবে। এছাড়া জাতীয় রেকর্ড হলে পাবে ৫ লাখ টাকা’ জানাচ্ছিলেন মন্টু।
মিটের ৭২ ঘণ্টা আগের করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট দেখিয়ে নিবন্ধন করতে হবে অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের। গতকাল নিবন্ধনের শেষ দিনের দুপুর পর্যন্ত ৩৬টি জেলা, সংস্থা ও দল থেকে ৩৭২ জন নিবন্ধন করেছে। গতকাল রাতের মধ্যে সংখ্যাটা সাড়ে ৪শ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছিলেন তারা। তবে মন্টুর আশঙ্কা কভিড-১৯ মোকাবিলায় তারা যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তা ভেস্তে যেতে পারে বাফুফের এক সিদ্ধান্তে। তিন দিনের মিটের প্রতিদিনই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিপিএলের ম্যাচ রাখা হয়েছে রাত ৮টা থেকে। তাই প্রতিদিন অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনকে মিটের বিভিন্ন স্থাপনাগুলো নতুন করে সাজাতে হবে। অথচ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন এই মিট আয়োজনের জন্য বারবার চিঠি দিয়েও বাফুফেকে টলাতে পারেনি। তাই কাল ক্ষোভটা আর ঢেকে রাখতে পারলেন না অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, ‘বছরের বড়জোর ১০-১২ দিন আমরা মাঠটা ব্যবহার করি। বাকি বেশিরভাগ সময়ই মাঠের দখল থাকে ফুটবলের। আমরা গত মাসের ৬ তারিখ অ্যাথলেটিক্স মিট আয়োজনের বিষয়টি চিঠি দিয়ে বাফুফেকে জানিয়েছিলাম। এরপরও বারবার চিঠি দিয়েছি এই তিনদিন খেলা না রাখতে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি। এটা দুঃখজনক। আমরা সবার খেলার পক্ষে। ফুটবল ভালো করলে আমরা সমর্থন করি। তাদের কাছ থেকেও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ব্যবহার আশা করি। তাদের তো বিকল্প ভেন্যু আছে। আমাদের তো সেটা নেই।’
আজ শুরু হলেও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল আসরের দ্বিতীয় দিন এর উদ্বোধন করবেন। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস প্রধান অতিথি হয়ে আসবেন সমাপনী দিনে।
