সড়কে অভিনেত্রী আশার মৃত্যু

ধাক্কা দেওয়া ট্রাক ১০ দিনেও শনাক্ত হয়নি

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৩২ এএম

রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ট্রাকচাপায় অভিনেত্রী আশা চৌধুরীর মৃত্যুর ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও তাকে বহনকারী মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেওয়া সেই ট্রাকটি এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ট্রাকটি দেখা গেলেও তার নম্বরপ্লেট অস্পষ্ট ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজস্ব বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করেও ট্রাকটি শনাক্ত করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে ট্রাকটি শনাক্তে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) বিভাগের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ।

এদিকে দুর্ঘটনার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলটি রাস্তা পার হওয়ার জন্য সঠিক স্থানে থাকলেও ট্রাকটির চালকের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও বলছেন, ওই দুর্ঘটনা ট্রাকচালকের ভুলে হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে। তবে আশার পরিবারের সন্দেহ মোটরসাইকেলটির চালক শামীম আহমেদই আশার মৃত্যুর জন্য দায়ী। শামীমের বক্তব্যের অসংলগ্নতা এবং এত রাতে আশার সঙ্গে তার থাকার বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছেন না তারা।

গত ৪ জানুয়ারি গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর রোডের টেকনিক্যাল মোড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন অভিনেত্রী আশা। আশার মৃত্যুর ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ তার স্বজনরা। তারা বলেছেন, ওইদিন রাত ১১টার দিকে আশা তার মাকে ফোনে জানায় যে সে বনানীতে আছে। ২০ মিনিটের মধ্যে বাসায় ফিরবে। বনানী থেকে কালশী রোড হয়ে আশার মিরপুর রূপনগর আবাসিক এলাকার বাসায় ফেরার কথা ছিল রাত ১১টার মধ্যে। কিন্তু রাত প্রায় ২টার দিকে মোটরসাইকেল চালক শামীম আহমেদ আশার মাকে ফোন দিয়ে দুর্ঘটনার খবর জানায়। আশার পরিবারের পূর্বপরিচিত শামীমের মোটরসাইকেলেই বাসার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল আশা। স্বজনদের সন্দেহ শামীমই নেশাজাতীয় কিছু খাইয়েছিল আশাকে। সে সুস্থ থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না। এছাড়া আশা রাস্তায় ছিটকে পড়ার পর তাকে একবারও ধরেনি শামীম। এসব কারণ উল্লেখ করে মোটরসাইকেল চালক শামীমসহ অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় মামলা করেন আশার বাবা আবু কালাম। এ মামলায় শামীমকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে আশাকে বহনকারী মোটরসাইকেলটি দারুস সালামের দিক থেকে এসে টেকনিক্যাল মোড় থেকে ডানে মিরপুর ১ নম্বর রোডে যাওয়ার জন্য ট্রাফিক সিগনালে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একটি ট্রাক একই দিক থেকে এসে হঠাৎ ডানে চেপে যায়। পরে আবার বাঁয়ে চেপে বেরিয়ে যায়। এ সময় আশাকে বহনকারী মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা লাগে। তখন মোটরসাইকেলটি ও তার চালক ডানে কাত হয়ে পড়লেও আশা বামে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ট্রাকটি সোজা চলে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার এসআই সুহান আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ট্রাকটি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি। বিআরটিএর সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের একটি সংস্থা আছে আরএফআইডি। তারা একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে, যেটি রেডিয়েশনের মতো। এর মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। আমি বিআরটিএর কার্যালয়ে কথা বলেছি। তারা দুই-এক দিনের মধ্যে একটি লিস্ট দিতে পারে। আমরা আশাবাদী দুই-এক দিনের মধ্যে আমরা গাড়িটা অন্তত শনাক্ত করতে পারব।’

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গাড়ির নম্বর শনাক্তে আমি ডিএমপি কন্ট্রোল ও ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সিসিটিভি ফুটেজ, হাইওয়ে পুলিশ ও ঢাকা রেঞ্জ অফিসের ফুটেজ চেক করেছি। সেখানে গাড়ি দেখা যায়, কিন্তু নম্বরপ্লেট অস্পষ্ট। নম্বর পেলে এতদিন লাগত না। আমরা গাড়ি শনাক্ত করে আসামি গ্রেপ্তার করতে পারতাম।’

ঘটনার ১০ দিন পর ট্রাক শনাক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আশার বাবা আবু কালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ এখনো ট্রাক শনাক্ত করতে পারেনি। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আশার সঙ্গে কী ঘটেছে তা উদঘাটন হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘শামীম আশার পূর্বপরিচিত হলেও সে ২০ বার ফোন দিলে একবার ধরত আশা। আশার মৃত্যুর আগে দীর্ঘসময় তারা ঢাকায় ঘুরেছে, খেয়েছে বলে দাবি করেছে শামীম। এছাড়া শামীমের একেক সময় একেক কথায় আমাদের সন্দেহ হয়েছে। এজন্য তাকে আসামি করেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত