কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে সংঘাত শঙ্কা আ.লীগে

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৪২ এএম

চলমান পৌর নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে আজ শনিবার ভোটগ্রহণ হবে দেশের ৬০টি পৌরসভায়। নির্বাচন উপলক্ষে এসব পৌরসভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকলেও এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচনী উত্তাপ কোনো কোনো জায়গায় রূপ নিয়েছে সহিংসতায়, ফলে ইতিমধ্যে প্রাণ গেছে বেশ কয়েকজনের। এই ধাপের নির্বাচনে কাউন্সিলর ভোট নিয়ে সংঘাতের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি তৈরি করেছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কঠোর সিদ্ধান্তে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থী অনেকাংশে কম থাকলেও কাউন্সিলর ভোট নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা মেতে উঠেছেন। যা নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ ঘটছে। যার ধারাবাহিকতায় ভোটের দিনও কাউন্সিলর ভোট নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই  যাচ্ছে। এদিকে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র প্রার্থী এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই মির্জা আবদুল কাদেরের দিকে দৃষ্টি এখন সারা দেশের। ভোট নিয়ে দলের ও সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬০টি পৌরসভার ৫৬টিতে মেয়র পদে ভোট হবে। নারায়ণগঞ্জের তারাব, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, পাবনার ভাঙ্গুরা এবং পিরোজপুরে ভোটের আগেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মেয়র পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। বাকি ৫২টিতে মেয়র পদে ভোট হবে। তবে ৬০টি পৌরসভার সবকটিতেই কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ হবে।

প্রথম ধাপে ২৩টি পৌরসভায় ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও দ্বিতীয় ধাপে সংঘাত-সহিংসতা বেড়েছে। দ্বিতীয় দফায় ৬১টি পৌরসভায় স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় উত্তাপ গত কয়েক দিন ধরেই বেড়েছে। তবে নির্বাচনী এ উত্তাপ কোনো কোনো জায়গায় রূপ নেয় সহিংসতায়। গত বুধবার রাতে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর ভাই খুনের ৫ ঘণ্টা পর নদীতে পুঁতে রাখা প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহতও হন। একই দিন রাতে নরসিংদীর মনোহরদীতে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন কাউন্সিলর প্রার্থী, সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। এ সময় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী সংঘাতে নিহত হন একজন। ওই ঘটনায়ও আহত হন কয়েকজন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের তারাবোতে ও গাজীপুরের শ্রীপুরেও পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা হয়েছে। আর সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যেই এ ধরনের সহিংসতা বেশি ঘটেছে বলে জানা গেছে। অনেকগুলো পৌরসভায় দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনী পরিবেশ সংঘাতময় হয়ে ওঠায় তা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ১৭টি পৌরসভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পৌরসভাগুলো হচ্ছেদিনাজপুর, মোহনগঞ্জ, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, কিশোরগঞ্জ, কুলিয়ারচর, সাভার, বসুরহাট, গুরুদাসপুর, খাগড়াছড়ি, মোংলাপোর্ট, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ছাতক, শেরপুর, সারিয়াকান্দি ও সান্তাহার।

সবার দৃষ্টি বসুরহাটে : নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই মির্জা আবদুল কাদেরের দিকে দৃষ্টি এখন সারা দেশের। ভোট নিয়ে দলের ও সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছেন তিনি। সরকারি দলের প্রার্থী হয়েও মির্জা কাদের নিজের বিজয় নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি এও বলেছেন, বসুরহাটে নৌকা হারলে এর জন্য তার নিজের ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও দায় এড়াতে পারবেন না। নোয়াখালীর আশপাশের বিভিন্ন জেলার ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন বলে দাবি মির্জা কাদেরের। তাই বসুরহাটে নৌকার মেয়র প্রার্থী হারলেও মির্জা কাদের বোমা ফাটাবেন, বিজয়ী হলেও কথার বোমাবর্ষণ করবেন। যা আওয়ামী লীগকে আরও বিব্রত করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বসুরহাটে নৌকার মেয়র প্রার্থী মিজা কাদের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক ধৈর্য ধরেছি। আরও অনেক কথা বলব, নির্বাচনটা আগে শেষ হোক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত