ইবিতে সেবা ছাড়াই নেওয়া হচ্ছে হল ও পরিবহন ফি

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১২:২৪ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। ক্যাম্পাস বন্ধকালীন সময়ে ভার্চুয়াল ক্লাস চললেও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পরীক্ষাগুলো নেওয়া অসম্ভব ছিল বিভাগগুলোর। ফলে দীর্ঘ সেশনজটের শঙ্কায় আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো নেওয়ার দাবিতে গত ৯ ডিসেম্বর মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিভাগ পরীক্ষার সময়সূচিসহ সেমিস্টার, হল ও আবাসিক ফি (ফরম ফিলআপ) পরিশোধের সময় নির্ধারণ করে দেয়। এতে শিক্ষার্থীদের প্রায় এক বছর হল ও পরিবহন সেবা না নিলেও পরীক্ষার কারণে গুনতে হচ্ছে ফি। বিষয়টি করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো হল, পরিবহন ও টিউশন ফি মওকুফের দাবি জানিয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার তিন মাস পর অনলাইন ক্লাস শুরু হয়। ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক কোনো সহযোগিতা পাননি। এ সময়ও আবাসিক হলের অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস পাশ্ববর্তী কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ এলাকায় মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করেন। ফলে তাদের গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। করোনাকালেও মেস বা বাসায় অবস্থান না করেও ভাড়া পরিশোধ করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিব উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ। এ সময় আমরা আবাসিক ও পরিবহন সেবা পাইনি। তবুও আমাদের ফি দিতে হচ্ছে।

বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন সংসদের সাধারণ সম্পাদক জিকে সাদিক বলেন, হল ও পরিবহনের অন্যায্য ফি আদায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বিশ^বিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে মনে করি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. তপন কুমার জোর্দ্দার বলেন, হল প্রভোস্টদের সঙ্গে কথা বলব। যেন তারা বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে নেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম বলেন, এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খোলা সম্ভব নয়। তবে ফি মওকুফের দাবিটি যৌক্তিক। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত