উইন্ডিজের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০২:০৩ এএম

কাল উইন্ডিজ যখন ৫৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে, ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর লাইভ স্কোর আপডেটে এক ভক্তের মন্তব্য, ‘বাংলাদেশ-উইন্ডিজ ‘এ’ দল খেলছে।’ আরেকজন বলেন, ‘দুই দলেরই উচিত ছিল সিরিজ পিছিয়ে খেলার। যেন সেরা ক্রিকেটারদের থাকা নিশ্চিত করা হয়।’ এই দুই মন্তব্যের প্রতিবাদে আরেকজন বলেন, ‘বিপক্ষে কোন দল আছে এটা তো বাংলাদেশের দোষ না।’ সত্যি, উইন্ডিজ এমন একটি দল পাঠিয়েছে যারা তাদের ভবিষ্যৎ হবে। কিন্তু একসঙ্গে এতজন অভিজ্ঞের স্বেচ্ছা ছুটিতে যাওয়াতে তো আর বাংলাদেশের দোষ নেই। তাই প্রত্যাশিতভাবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে উইন্ডিজকে ৭ উইকেটে (প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে) হারিয়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টানা সপ্তম ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। এতে উইন্ডিজের বিপক্ষে টানা তৃতীয় সিরিজ জয় নিশ্চিত হলো। এই জয়ে বিশ্বকাপ সুপার লিগে বাংলাদেশ উঠে এলো তিনে। ২০ পয়েন্টের পাশাপাশি ১.৩৭ রানরেট বাংলাদেশের। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ২৬তম সিরিজ জয় এটি। ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামে তৃতীয় ম্যাচটিও জিতলে দুইয়ে উঠে আসবে টাইগাররা। ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রতিপক্ষকে টানা দুই ম্যাচে দেড়শোর নিচে আউট করার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। টস জিতে এ ম্যাচে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদ। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সিদ্ধান্ত সঠিক হতে পারত। কিন্তু ওই অভিজ্ঞতার কাছেই হার দলটির। এক পর্যায়ে ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে একশোর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল তারা। সেখান থেকে লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে সর্বোচ্চ ৪১ করা রোভম্যান পাওয়েলের লড়াইয়ে ১৪৮ রানে মুখ রক্ষা হয় উইন্ডিজের। ক্যারিয়ার সেরা স্পেলে মেহেদী হাসান মিরাজ ২৫ রানে নেন ৪ উইকেট। জবাবে হেসে-খেলে জিতে যায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে হাফসেঞ্চুরির আক্ষেপ মেটান তামিম ইকবাল। সঙ্গে সাকিব আল হাসানের রানে ফেরা ১৬.৪ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় এনে দেয় বাংলাদেশকে।

আগের ম্যাচে ১২৫ করতে ৩৩ ওভার খেলতে হয় বাংলাদেশকে। এ ম্যাচে প্রায় দেড়শো রান টপকাতে একই সংখ্যক ওভার খেলে স্বাগতিকরা। তামিম ও লিটন দাস আবারও দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দেন। এ ম্যাচে হাত খুলে খেলছিলেন লিটন। ২৪ বলে ২২ রানের ইনিংসে অসাধারণ চারটি চারের মার ছিল লিটনের। প্রতিটিই নিখুঁত টাইমিংয়ের উদাহরণ। কিন্তু উজ্জ্বল শুরুর এই ইনিংস আকিল হোসেনের বাধায় বড় করতে পারেননি লিটন। আগের ম্যাচে ব্যর্থ নাজমুল হোসেন শান্ত এবার ১ রানে ফেরেননি। তবে ১৪ রানে জীবন পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। সুযোগ পাওয়ার দুই ওভার পর ১৭ রানে ফিরে যান। তামিমের সঙ্গে সাকিব যোগ দিয়ে স্বচ্ছন্দে এগোতে থাকেন। আকিলকে ডাউন দ্য উইকেটে বিশাল ছক্কা হাঁকান তামিম। মনে হচ্ছিল অপরাজিত থেকেই শেষ করে আসবেন। কিন্তু ৭৬ বলে ৫০ করেই থামতে হয় অধিনায়ককে। পরে মুশফিককে নিয়ে অপরাজিত থেকেই ম্যাচ শেষ করে আসেন সাকিব। ৫০ বলে ৪ চারে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকা সাকিব নিজেকে যেন ২০১৯ বিশ্বকাপে ফিরিয়ে নেন।     

এর আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উইন্ডিজের শুরুটা ছিল সাবধানী। কিন্তু পঞ্চম ওভারেই মোস্তাফিজের আঘাত। এবারও তার শিকার সুনিল অ্যামব্রিস (৬)। প্রথম ম্যাচ ছিল সাকিব আল হাসানের। এ ম্যাচ মিরাজ নিজের করে নেন। তৃতীয় ওভার করতে এসে অভিষিক্ত ক্রন ওটলে (২৪) ও জশুয়া ডি সিলভাকে (৫) তুলে শুরু করেন এই অফস্পিনার। প্রথম ম্যাচের মতোই ম্যাকার্থিকে তুলে শিকারের খাতা খোলেন। কিছু বাদে উইন্ডিজের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে আসে রানআউট। প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজের সর্বোচ্চ রান স্কোরার কাইল মায়ার্স এবার শূন্য হাতেই রানআউট। সাকিব দ্রুত নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নিলেন উইন্ডিজ অধিনায়ককে ফিরিয়ে। ১১ রান করা জেসন প্রথম ম্যাচেও সাকিবের শিকার ছিলেন। একপ্রান্তে আগলে থাকা ক্রুমা বোনারের সঙ্গে যোগ হন উইন্ডিজ দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ রোভম্যান পাওয়েল। কিন্তু তাকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দেওয়া হলো না ২৫ বলে ২০ করা বোনারের। অভিষেক ম্যাচে ৩ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদের বলে কাট করতে গিয়ে বোনারের ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল স্টাম্প ভেঙে দেয়। এরপর উইন্ডিজকে ১০০’র ভেতর গুটিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেন মিরাজ। রেমন রিফারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে তৃতীয় উইকেট নেন তিনি। উইন্ডিজের লেজেগোবরে অবস্থায় ১০ নম্বরে নামা আলজেরি জোসেফকে কিছুটা লড়াই ফিরিয়ে দেন পাওয়েল। দলের সবচেয়ে বড় ৩২ রানের জুটি গড়েন এ দুজনে। জোসেফ ১৭ রানে মোস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার হন। শেষ উইকেটে ১২ রান করা আকিল হোসেনকে নিয়ে আরও ২৮ রান যোগ করেন পাওয়েল। নিজে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মিরাজকে উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়ে আউট হন। নয়ত বাকি ৬.২ ওভারে সংগ্রহ আরও বাড়াতে পারত উইন্ডিজ।

সিরিজ জয়ে ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় করায় জাতীয় ক্রিকেট দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টানা জয় পায় টাইগাররা।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শুভেচ্ছাবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ বিরতির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০তে সিরিজ জয় নিশ্চিত করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, ৩১৪ দিন পর (বুধবার, ২০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার দিনে আবার আইসিসি ওয়ানডে লিগেও অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশের। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিকরা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারায় ৬ উইকেটে এবং দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় তুলে নেয় ৭ উইকেটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত