রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ প্রদান

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে সুনামগঞ্জের সাবেক প্যানেল মেয়র

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২:১৪ এএম

জালিয়াতির মাধ্যমে পাসপোর্ট করতে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেওয়ার মামলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হোসেন আহমদ রাসেলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কুদরত-এ-ইলাহীর আদালতে মামলাটির পলাতক আসামি সাবেক এই কাউন্সিলর আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। কিন্তু তা না-মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। সুনামগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর সেলিম নেওয়াজ দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানান।

এর আগে গত বুধবার প্রতারণার মাধ্যমে দুই রোহিঙ্গাকে সুনামগঞ্জ পৌরসভা থেকে জন্মসনদ দেওয়ার মামলায় পৌরসভাটির মেয়র নাদের বখত এবং প্যানেল মেয়র হোসেন আহমদ রাসেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ওইদিন মামলার নির্ধারিত তারিখে আদালত পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়। পরে গত বৃহস্পতিবার তাদের মধ্যে আদালত থেকে জামিন নেন পৌর মেয়র নাদের বখত এবং সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য কাওসার আলম।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া বাকি তিনজন হলেন সাবেক কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল, পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী পীযূষ কান্তি তালুকদার এবং পৌরসভার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধক ও স্যানিটারি পরিদর্শক মো. সেলিম উদ্দিন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া এই পাঁচজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। পুলিশ অভিযোগপত্রে তাদের নাম যুক্ত করেছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট কার্যালয়ে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে পাসপোর্ট করতে আসেন দুই রোহিঙ্গা। তারা টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চারজনের সহযোগিতায় সুনামগঞ্জে আসেন। এই চারজন জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ওই দিন সকালে পাসপোর্ট করতে গিয়ে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। বিকেলে আবার ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দিতে পাসপোর্ট কার্যালয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে দুই রোহিঙ্গা ও তাদের সহযোগী চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। ওই দিনই প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে জামালগঞ্জের তেরানগর গ্রামের চার বাসিন্দাকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করে পুলিশ। এর আগে ওই দুই রোহিঙ্গা সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলীপাড়া এলাকার বর্তমান বাসিন্দা হিসেবে স্থানীয় কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেলের সুপারিশে পৌরসভা থেকে জন্মসনদ নেন। আর সেটি সত্যায়ন করেন সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য কাওসার আলম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত