সাগরিকায় বাংলাদেশের জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন ভেট্টোরি

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৫১ এএম

টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম জয় ২০০৫ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামের এম.এ. আজিজ স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয়টি ২০০৯ সালে উইন্ডিজ সফরে। প্রথম ও দ্বিতীয় জয়ের আগে এমন দুটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ, যেখানে টাইগারররা প্রায় জিতেই গিয়েছিল। একটি ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মুলতান টেস্ট, যেখানে জয় ছিনিয়ে নেন ইনজামাম উল-হক। দ্বিতীয় ঘটনাটি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে, ২০০৮ সালে। এবার হৃদয় ভেঙেছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি।

পুরো ম্যাচটাই বলতে গেলে ভেট্টোরির। প্রথম ইনিংস ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর ৫৫ রানে অপরাজিত থেকে বিপর্যয় সামাল দেন। দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৪ উইকেট। বাংলাদেশ ৩১৭ রানের টার্গেট বেঁধে দেয়। ভেট্টোরি ৭৬ রান করে দলকে লক্ষ্যপূরণে সাহায্য করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড জিতেছিল ৩ উইকেটে।

চট্টগ্রাম টেস্টের ১৫ সেশনের ১৪ টাতেই দুদল ছিল সমানে সমান। যতবার বাংলাদেশ চালকের আসনে বসার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল ততবারই একা ভেট্টোরি প্রতিরোধ গড়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৪৫ রানে অলআউট হয়েছিল। এরপর ১০০ রানে ৭ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড ১৭১-এ পৌঁছেছিল ভেট্টোরির অপরাজিত ৫৫ রানের কল্যাণে। দ্বিতীয় ইনিংসে ভেট্টোরির বোলিং জাদুতেই বাংলাদেশ ২৪২-এ অল আউট হয়। এরপর ৩১৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নামা নিউজিল্যান্ড যখন ২১৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারায়, বাংলাদেশ জয় দেখছিল। কিন্তু ড্যানিয়েল ফিনকে নিয়ে লড়াই শুরু করেন ভেট্টোরি। শেষ সেশনে নিউজিল্যান্ডের দরকার ছিল ৩৬ রান। জেতার জন্য বাংলাদেশের দরকার ৫ উইকেট। তখনো চার নম্বরে ব্যাটিং করতে নামা ভেট্টোরি অপরাজিত। দলকে জয় থেকে ১৯ রান দূরে পৌঁছে দিয়ে প্রতিপক্ষ স্পিনার রাজ্জাকের বলে বোল্ড হন তিনি। বাকি পথটা সহজেই পাড়ি দেন ওরাম-মিলসরা সহজেই।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে কি টেস্ট কি ওয়ানডে- সব ক্ষেত্রেই এমন ভূমিকায় ভেট্টোরিকে অনেকবার দেখা গেছে। অথচ তিনি ইমরান খান কিংবা ইয়ান বোথামদের মতো অলরাউন্ডার ছিলেন না। ভেট্টোরি ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অফ স্পিনার। আজ তার ৪২তম জন্মদিন (১৯৭৯ সালের ২৭ জানুয়ারি অকল্যান্ডে তার জন্ম)। জন্মসূত্রে তিনি ইতালিয়ান। নামের মাঝের অংশ লুকা। ড্যানিয়েল লুকা ভেট্টোরি। পড়াশুনা করেছেন সোসিওলজি নিয়ে। সমাজবিদ্যার প্রফেসর হলেই তাকে ভালো মানাতো। কিন্তু তিনি ক্রিকেটার হয়ে গেলেন। টেস্ট এবং প্রথম শ্রেণিতে ভেট্টোরির প্রথম শিকার নাসের হুসেইন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক। এরপর দেশের হয়ে টেস্টে দ্রুততম সময়ে (২১ বছর ৪৬ দিন) ১০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েন। দেশের হয়ে ৯৭ টেস্টে দ্রুততম ৩০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও তার দখলে। ১১৩ টেস্টে ৩৬২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৩০ গড়ে ৪৫৩১ রানও করেছেন। ২০০৭ সালে স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের পরিবর্তে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন ভেট্টোরি। পরের বছর সব সংস্করণের নেতৃত্ব পান তিনি। ২০০৯ সালে তার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল খেলেছিল নিউজিল্যান্ড। ২০১১-র বিশ্বকাপে ভেট্টোরির দল ওঠে সেমিফাইনালে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পর তিনি ওয়ানডে থেকে অবসর নেন।

মেলবোর্নের সেই ফাইনালের পর দীর্ঘ ১৮ বছরের ক্রিকেট জীবনে ইতি টেনে ভেট্টোরি বলেছিলেন, ‘দেশের হয়ে অজিদের বিরুদ্ধে ফাইনালই ছিল আমার জীবনের শেষ ম্যাচ। এমন একটা বিশেষ মুহূর্তকে সাক্ষী রেখে অবসর নিতে পেরে ভালোই লাগছে। তবে আরও ভালো লাগত যদি ফাইনালে আমরা জিততাম।’ ২০১৫ সালে তারুণ্যে ভরা নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলে ভেট্টোরির মতো এক জন স্পিনারের ভূমিকা অস্বীকার করতে পারেননি নির্বাচকরা। বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা ছিল তার, নিয়েছিলেন ১৫টি উইকেট। সবমিলিয়ে ২৯৫টি ওয়ানডতে তার শিকার ৩০৫টি। পাঁচ বিশ্বকাপে ৩২টি ম্যাচে নিয়েছেন ৩৬ উইকেট।

অবসরের পর কোচিংকে বেছে নিয়েছেন। বাংলাদেশের বোলিং কোচের দায়িত্বে তিনি। তবে উইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিরিজটায় আসতে পারেননি নিজ দেশে করোনার কঠোর নিয়মকানুনের জন্য। তবে মার্চে শিষ্যদের সঙ্গে থাকবেন নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেট সিরিজে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত