টিকা বিতরণে বৈষম্য বাড়ছে -ডব্লিউএইচও

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৪:৫৬ এএম

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিয়ে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত সোমবার সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, করোনার টিকা বিতরণে স্বচ্ছতার অভাব হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতির কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি হবে।

ডব্লিউএইচও বলছে, টিকা বিতরণসংক্রান্ত কার্যাবলি চালাতে চলতি বছরে ২৬ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। করোনা মোকাবিলা করতে গণপরীক্ষা ও টিকার বিকল্প নেই বলেও সংস্থাটি জানায়। সংস্থাটির প্রধান তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেইয়েসুস বলেন, ‘ধনী দেশগুলো টিকা কিনে নিচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো টিকার দিকে তাকিয়ে আছে এবং অপেক্ষা করছে। যত দিন যাচ্ছে ততই এই বিভক্তি বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘টিকাসংক্রান্ত জাতীয়তাবাদে স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ হবে। কিন্তু এর সঙ্গে প্রত্যেক দেশের মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িয়ে আছে। এই অসাম্যকে সমর্থন করা উচিত হবে না।’ রিসার্চ ফাউন্ডেশন অব ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘টিকা জাতীয়তাবাদিতার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির ৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। আর এই ব্যয়ের অর্ধেকই চলে যাচ্ছে ধনী অর্থনীতির দেশগুলোর কাছে।’

করোনার আর্থিক ক্ষতি ধনী দেশগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তা অনেক কষ্টকর হবে। এই বাস্তবতায় বৈশ্বিক অর্থনীতির সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করেন আধানম।

ডব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের প্রধান মাইকেল রায়ানের মতে, করোনার টিকা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে যাওয়ার মানে এই নয় যে, করোনা শেষ হয়ে যাবে পৃথিবী থেকে। স্মলপক্সের মতো করোনার বিরুদ্ধেও মানুষকে লড়াই চালিয়ে যেতে হতে পারে সামনের দিনগুলোতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত