টাঙ্গাইলের পাঁচ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী বিজয়ী

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২১, ১১:১৫ পিএম

পৌরসভা নির্বাচনের ৩য় ধাপে শনিবার টাঙ্গাইলের পাঁচটি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বলে টাঙ্গাইলের জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা এই এইচ এম কমরুল হাসান নিশ্চিত করেছেন।

টাঙ্গাইলের যে পাঁচটি পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে সেগুলো হলো টাঙ্গাইল সদর, মধুপুর, ভূঞাপুর, মির্জাপুর ও সখীপুর।

টাঙ্গাইল সদর পৌরসভায় মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল হক আলমগীর। মধুপুর পৌরসভায় মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিদ্দিক হোসেন খান, ভূঞাপুর পৌরসভায় মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ, মির্জাপুর পৌরসভায় মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালমা আক্তার ও সখীপুর পৌরসভায় মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু হানিফ আজাদ।

টাঙ্গাইলের সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান রাতে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

এ নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, টাঙ্গাইল সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সিরাজুল হক আলমগীর বেসরকারিভাবে ৬৬ হাজার ৬১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রার্থী মাহমুদুল হক সানু পেয়েছেন ২২ হাজার ৯০০ ভোট।

মধুপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সিদ্দিক হোসেন খান বেসরকারিভাবে ২৫ হাজার ৯৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রার্থী আব্দুল লতিফ পান্না ১ হাজার ৬৫১ ভোট পেয়েছেন।

ভূঞাপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ বেসরকারিভাবে পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ৫০৫ ভোট।

সখীপুর পৌরসভায় তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু হানিফ আজাদ বেসরকারিভাবে ৭ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে জয়ী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সানোয়ার হোসেন সজিব পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৪৪ ভোট। এবং মির্জাপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সালমা আক্তার বেসরকারিভাবে ১২ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়ে জয়ী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ২হাজার ৯২৪ভোট।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটকেন্দ্রে সব সময়ই ছিল ভোটারদের দীর্ঘ সারি। দুপুরে মধুপুর পৌরসভার ধানের শীষ প্রার্থী আব্দুল লতিফ পান্নার এজেন্টেদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, জাল ভোটসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেন।

অপরদিকে ভূঞাপুর পৌরসভায় এক কাউন্সিলর প্রার্থী ও তার সর্মথকদের ওপর হামলার ঘটনায় নারীসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়। এ ছাড়া টাঙ্গাইল সদর পৌরসভায় দেশীয় অস্ত্রসহ এক যুবককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১২নং সাকরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ কারণে কেন্দ্রটি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেট এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

টাঙ্গাইলের জেলা সিনিয়র নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন, কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করার লক্ষে র‌্যাবের ১০টি টিম, পুলিশের মোবাইল টিম, স্টাইকিং ফোর্স ও ৫৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছিলে।

টাঙ্গাইলের পাঁচটি পৌরসভার ৫৪টি ওয়ার্ডে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়াও ৮০ সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও ২৩৫ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। টাঙ্গাইলের পাঁচটি পৌরসভায় মোট ৯১টি কেন্দ্রে ৬৩৩টি বুথের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। এতে মোট ২ লক্ষ ৩১ হাজার ৮৩৯জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত