একই সিনেমা যখন বাসায় বসে আরাম করে দেখা যায়, তখন কি দর্শক হলে গিয়ে দেখতে চাইবে? মহামারির আগেও প্রদর্শক ও হল-প্রেমীদের কাছে উত্তর ছিল, ‘না’। কিন্তু মহামারি পরিস্থিতিতে এর ফলাফল অদ্ভুতই বলতে হচ্ছে। ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’-এর পর নতুন চমক দেখা গেল।
চলতি সপ্তাহে হলিউডে মুক্তি পেয়েছে ডেনজেল ওয়াশিংটন ও রামি মালিক অভিনীত ‘দ্য লিটল থিংস’। এ ছবি স্থানীয় বক্স অফিসে ২ হাজার ১৭১টি পর্দার বিপরীতে আয় করেছে ৪৮ লাখ ডলার। একই সময়ে ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এইচবিও ম্যাক্সে দেখা যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক জায়গায় মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি একটি টিকিটের চেয়েও কম।
‘দ্য লিটল থিংস’ ওয়ার্নার ব্রসের সেই ১৭টি ছবির একটি, যেগুলো প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে একই দিন ডিজিটাল মিডিয়ায় মুক্তি পাচ্ছে।
স্বাভাবিক সময়ে নতুন ছবিটির আয়কে ভরাডুবিই বলা হতো। কিন্তু করোনাকালে এটিই হলো বক্স অফিসে সবল উপস্থিতি। অন্যদিকে কী পরিমাণ দর্শক দেখেছেন সেই পরিসংখ্যান প্রকাশ না করলেও ওয়ার্নার ব্রস বলছে, শিগগিরই এইচবিও ম্যাক্সে বেশি দেখা সিনেমার তালিকায় এক নম্বরে ওঠে আসবে ‘দ্য লিটল থিংস’।
এ বিষয়ে প্ল্যাটফর্মটির ভিপি ও জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ডি ফরসেল জানান, ‘দ্য লিটল থিংস’ এইচবিওতে এক নম্বরে ওঠে আসবে। তারা খুবই আনন্দিত। ‘ওয়ান্ডার ওম্যান ১৯৮৪’ ও ‘দ্য লিটল থিংস’ দেখিয়ে দিয়েছে ভালোমানের ছবির জন্য কতটা ক্ষুধার্ত দশর্কেরা।
সম্প্রতি একই দিনে হল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমার মুক্তির ঘোষণায় ক্ষেপে যান হলিউডের একাধিক নির্মাতা। প্রথমে মুখ খোলেন ক্রিস্টোফার নোলান। আর প্যাটি জেনকিনস তো ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ সিরিজের পরের সিনেমা না বানানোর ঘোষণা দেন। তখন ওয়ার্নার ব্রস জানায়, সব সিনেমা শুরুতেই ওটিটিতে মুক্তি পাবে না।
জন লি হ্যানকক পরিচালিত ‘দ্য লিটল থিংস’-এর গল্প দুই পুলিশ অফিসারকে ঘিরে, যারা একজন সিরিয়াল কিলারকে খুঁজছে। আর-রেটেড ছবিটি ১৮টি দেশে ২৮ কোটি ডলার আয় করেছে। এ সব দেশে এখনো এইচবিও ম্যাক্স পৌঁছায়নি। ছবি রাশিয়ায় আয় করে ১১ লাখ ডলার, সৌদি আরবে আয় করেছেন সাড়ে ৮ লাখ ডলারের বেশি।
এ দিকে কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে হলিউডের একাধিক ছবি সম্প্রতি পিছিয়ে গেছে।
