অভিযোগের শেষ নেই কক্সবাজার জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) সভাপতি ফজলুল করিম সাইদীর নামে। জেলার ফুটবলকে অন্ধকারে ঠেলে যিনি ফের সভাপতির চেয়ারে বসতে ছক কষছেন।
এই সংগঠকের বিরুদ্ধে একগাদা অভিযোগ এনে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) চিঠি দিয়েছেন কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তারা।
বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো দ্রুত খতিয়ে দেখে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।
যে অভিযোগগুলো উঠেছে সাইদীর বিরুদ্ধে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ব্যাংকে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে ডিএফএর টাকা লোপাট, বাফুফের নির্দেশনা অমান্য করে দ্বিতীয় বিভাগ লিগ আয়োজন।
অভিযোগ- বাফুফের এক সদস্যকে দিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে খেলা দলগুলোকে কাউন্সিলর করার চেষ্টা করছেন সাইদী।
কক্সবাজার জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সবশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ। দীর্ঘ ৫ বছর সভাপতির চেয়ারে থেকে একবারও লিগ আয়োজন করতে পারেননি সাইদী বা তার নেতৃত্বাধীন কমিটি।
প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগ আয়োজনের উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে মাঝে-সাজে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। তাতে করে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের নিবন্ধিত ১৬টি দলের অধিকাংশরা। কারণ লিগ মাঠে গড়ানোর উদ্যোগে দল বদল কার্যক্রম শুরু করতে হয়েছিল তাদের।
এদিকে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে কোনো প্রকার সার্কুলার ছাড়া দ্বিতীয় বিভাগ লিগ আয়োজনের উদ্যোগ নেয় ডিএফএ। ক্লাবগুলোর আপত্তির মুখে প্রথম বিভাগের পর দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগ আয়োজনের নির্দেশ দেয় বাফুফে।
কিন্তু বাফুফের নির্দেশ অমান্যকরে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ছয়টি ক্লাব নিয়ে নাম মাত্র লিগ (দ্বিতীয় বিভাগ) আয়োজন করে কক্সবাজার ডিএফএ। এই ক্লাবগুলো ছিল তাদের, যারা সভাপতির আজ্ঞাবহ।
তা ছাড়া, কক্সবাজারের লিগ কক্সবাজার স্টেডিয়ামেও হয়নি! রামুতে মাত্র ছয়দিনে শেষ করা হয়েছিল লিগটি।
ডিএফএ গঠনতন্ত্র বলে, দ্বিতীয় বিভাগের সেরা ছয় দল ভোটার হবে। তাই ঝুঁকি এড়াতে ১০ কিংবা ১২ দলের লিগ করা হয়নি।
স্থানীয় সংগঠকদের দাবি, বহু ক্লাবের আবেদনের পরও নিজস্ব ছয় ক্লাব নিয়ে এই লিগ অনুষ্ঠিত হয়। বাফুফের নির্দেশ অমান্য করে আয়োজিত যে লিগের উদ্বোধন করেন খোদ বাফুফে সদস্য বিজন বড়ুয়া!
ডিএফএ’র ১৩ সদস্যের ৮ জন এই লিগকে কেন্দ্র করেই সভাপতি সাইদীর বিরুদ্ধে অনাস্থা দেন। অভিযোগ, ডিএফএর তহবিল থেকে ভুয়া রেজুলেশন দিয়ে সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষকে পাশ কাটিয়ে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন সাইদী। যা নিয়ে অভিযোগ জানালে ডিএফএর হিসাব বন্ধ করে দেয় সাউথইস্ট ব্যাংকের কক্সবাজার শাখা।
বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, ‘আমরা কক্সবাজার থেকে বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। এগুলো দ্রুত খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেব।’
