যমুনা নদীতে চাহিদা অনুযায়ী পানির ড্রাপট না থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌবন্দরগামী রাসায়নিক সার ও পণ্যবাহী জাহাজ পূর্ণ লোডে চলাচল করতে পারছে না। বন্দরটির লেবার ইজারাদাররা বলছেন, যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠায় নাব্যসংকটে পড়ে এই রুট। এতে এক সপ্তাহ ধরে সারবাহী জাহাজগুলো পূূর্ণ লোড নিয়ে বন্দরে আসতে পারছে না। মাঝে মাঝে নদীতে ড্রেজিং করা হলেও দু-এক দিন পর ঠিকই আবার বালু জমে ভরাট হয়ে যায়। এতে জাহাজশূন্য হয়ে পড়েছে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এই বন্দর। ফলে লোকসানের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। পাশাপাশি জাহাজগুলো ডুবোচরে আটকা পড়ে সময় সময় ঘটছে দুর্ঘটনাও। এ অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঘাবাড়ী বন্দর নৌরুটে স্থায়ী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সঠিক নাব্য ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাঘাবাড়ী নৌবন্দর লেবার ইজারাদার আবদুস সালাম ব্যাপারী বলেন, বাঘাবাড়ী নৌবন্দর রুটের পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া, মোল্লার চর, ব্যাটারির চর, পেঁচাকোলা, মোহনগঞ্জ ও নাকালিয়া পয়েন্টে অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠেছে। ফলে সারবাহী জাহাজগুলো পূর্ণ লোড নিয়ে বন্দরে আসতে পারছে না। এ ছাড়া ভাড়ায় না পোষানোর কারণে বাঘাবাড়ীতে জাহাজ পাঠাতে রাজি হচ্ছেন না জাহাজ মালিকরাও। যেখানে ইজারা বাবদ প্রতি মাসে সরকারকে ২০ লাখ টাকা করে জমা দিতে হয়, যেখানে মাসে ৫ লাখ টাকাও আয় হয় না। তা ছাড়া জাহাজ না আসায় কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বন্দরে কর্মরত প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক।
তিনি আরও বলেন, ‘বাঘাবাড়ী নৌবন্দর রুটে পূর্ণ লোডে জাহাজ চলাচলের জন্য শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা-যমুনায় ১০ থেকে ১২ ফুট পানির প্রয়োজন হয়। সঠিক সময়ে ড্রেজিং না করায় এখন সেখানে ৬ থেকে ৭ ফুট পানি রয়েছে। ডুবোচরের কারণে পানির ঘাটতি থাকায় ৭০ শতাংশ মালামাল আরিচা ও দৌলতদিয়া থেকে লাইটারেজে করে আনতে হয়। এতে খরচ বেশি হওয়ায় বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে সারবাহী জাহাজ পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে সার পরিবহন ঠিকাদার কোম্পানিগুলো। ফলে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর জাহাজশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছি আমরা।
বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের লেবার সরদার নজরুল ইসলাম বলেন, বাঘাবাড়ী নৌবন্দর জাহাজশূন্য হয়ে পড়ায় এক সপ্তাহ ধরে আমাদের হাতে কাজ নেই। ফলে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছি।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহাব মিয়া বলেন, নাব্যসংকটের কারণে জাহাজগুলো আরিচা ও দৌলতদিয়া এলাকায় নোঙর করে রাখতে হচ্ছে। সেখান থেকে ছোট ছোট বাল্কহেডে করে মাল আনতে পরিবহন খরচ বেশি হচ্ছে। পাশাপাশি ডুবোচরে জাহাজ আটকে দুর্ঘটনাও ঘটছে। এতে মালিকরা জাহাজ না পাঠানোয় বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ড্রাইভার ও হেলপাররা।
বাঘাবাড়ী বিআইডব্লিউটিএর উপসহকারী পরিচালক ও বাঘাবাড়ী পোর্ট অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি নীতি অনুযায়ী এই রুটে নাব্যসংকট নেই। জাহাজ মালিকরা কী কারণে জাহাজ বাঘাবাড়ী পাঠাচ্ছেন না তা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
