বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি

তারেক রহমানের দুই বছরের কারাদণ্ড নড়াইলের আদালতে

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:২৯ এএম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটূক্তির মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে নড়াইলের আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম-২ আদালতের বিচারক আমাতুল মোর্শেদা এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তারেক রহমানকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা না দিলে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী বেন্দারচর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহাজান বিশ্বাস ওই মামলার বাদী। তবে গতকাল রায়ের সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

এ নিয়ে মোট চারটি মামলায় খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজার রায় হলো। অর্থ পাচারের একটি মামলায় সাত বছর, জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে আছেন তিনি।

২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপির এক অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করেন তারেক রহমান, যে খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর নড়াইলের হাকিম আদালতে এক হাজার কোটি টাকা মানহানির অভিযোগে মামলা করেন কালিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার শাহাজান বিশ্বাস। বিচারক সেই মামলা আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। পরে তারেককে পলাতক দেখিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।

মামলাটি সরকারপক্ষে পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি সঞ্জীব কুমার বসু। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তারেক রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন। এই রায়ে মামলার বাদী এবং জেলা আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনগণ খুশি হয়েছে।’

শাহাজান বিশ্বাসের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে ইংল্যান্ডের ইস্ট লন্ডনের এন্ট্রিয়াম ব্যাংকওয়েট হলে যুক্তরাজ্য বিএনপির এক সভায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতির পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশের স্থপতি ও রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজাকার ও পাকবন্ধু’ বলেন। এ ছাড়াও অনেক আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। আসামির এমন বক্তব্যে বাদীসহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের জনগণ বিস্মিত হয়েছে। তার বক্তব্য মানহানিকর ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টার শামিল। তারেক রহমানের এই বক্তব্য বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়। তার এই বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের জনগণের এক হাজার কোটি টাকার মানহানি ঘটেছে। বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী হওয়ায় তিনি মামলাটি দায়ের করেন।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেপ্তার হওয়ার এক বছর পর সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। তার পর থেকে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সেখানেই থাকছেন তিনি। বিদেশে থেকেই বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে মা খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ড পেয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তারেক। দণ্ড নিয়ে পলাতক তারেককে দেশে ফেরাতে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে তাতে সফলতা আসেনি। দেশের সংবাদমাধ্যমে পলাতক তারেক রহমানের বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচারের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত