দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত বুধবার শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নামার দুদিন পর গতকাল শুক্রবার তা আরও কমেছে। এদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪৩৫ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সাড়ে ১৫ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ছিল ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় তিনজনের কম করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের এই হার গত বছর ৪ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গত বছর ৩ এপ্রিল থেকে শুরু করে করোনা রোগীদের তথ্য সংরক্ষিত আছে। তাতে দেখা গেছে, এপ্রিলের ৩ ও ৪ তারিখ ৫০০-এর কমসংখ্যক পরীক্ষায় ২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তবে দেশে ব্যাপকভাবে নমুনা পরীক্ষা শুরুর পর গতকালেরটাই সর্বনিম্ন শনাক্ত হার।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর জুন, জুলাই ও আগস্টে ভাইরাসটির সংক্রমণ সর্বোচ্চ মাত্রায় উঠে। তখন অধিকাংশ দিনই শনাক্তের হার ছিল ২০-২৫ শতাংশের মধ্যে। সেপ্টেম্বর থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। শনাক্ত হার ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে গত ১৪ জানুয়ারি ৫ শতাংশের নিচে নামে। তার এক সপ্তাহ পর গত ২১ জানুয়ারি তা আরও কমে ৪ শতাংশের নিচে নামে এবং গত ৩ ফেব্রুয়ারি ৩ শতাংশের নিচে নামে। ওইদিন ২ দশমিক ৯২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়। গতকাল এই হার আরও কমল।
এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল সাতজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের ছয়জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর এ সংখ্যা গত ২৭৫ দিন বা ৯ মাস ৫ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সর্বশেষ গত বছর ৬ মে এর চেয়ে কম তিনজন রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। যদিও এর মাঝে গত ২৯ জানুয়ারিসহ আরও দুদিন সাতজন করে রোগীর মৃত্যু হয়।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ৩৩৪তম দিন। এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২০৬ পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৮টি জিন-এক্সপার্ট, ৬২টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৬টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৫ হাজার ৮১১ জনের নমুনা সংগ্রহ হয়। তার মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৫৬৬ জনের নমুনা।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৫০৭ রোগী সুস্থ হয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৮ হাজার ১৮২ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৮২ হাজার ৪২৪ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫২ এবং সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ চার ও নারী তিনজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২০০ পুরুষ ও ১ হাজার ৯৮২ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৭৮ ও নারী ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
শেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ছয়জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে এবং বাকি একজন রাজশাহী বিভাগের। এ নিয়ে করোনায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫৫৯ জন মারা গেল ঢাকা বিভাগে। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫০১, খুলনায় ৫৫৩, রাজশাহীতে ৪৬৮, রংপুরে ৩৫৭, সিলেটে ৩০৭, বরিশালে ২৪৭ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১৯০ জন রোগী মারা গেছে। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব চার, ৫১-৬০ বছরের এক, ৪১-৫০ বছরের এক এবং ৩১-৪০ বছরের ছিল একজন। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫০ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ৪৩২ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১০ হাজার ৩৪৭ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৩ হাজার ৫৮৭ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৩২১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৪৩৭টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ৫৮২টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ১৯৮টিতে।
