করোনা মহামারীর ফলে ব্যাংক খাতে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশ যতটা সম্ভব অবণ্টিত রাখার পক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ২০১৯ সালের মতো ২০২০ সাল এবং এর পরবর্তী বছরগুলোর জন্যও ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার নীতিমালা জারি করেছে এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়।
নীতিমালায় বলা হয়, নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণের সময় বাড়িয়ে নেয়নি বা আলোচ্য পঞ্জিকা বছরে প্রভিশন সংরক্ষণে ছাড় নেয়নি এমন ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে যদি আড়াই শতাংশ মূলধনসহ মোট ১৫ শতাংশ বা এর বেশি মূলধন থাকে, তাহলে সেই ব্যাংক সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে। মোট লভ্যাংশ দিতে পারবে ৩০ শতাংশ।
এতে আরও বলা হয়, প্রভিশন সংরক্ষণে ছাড় নেয়নি এমন ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে যদি মোট ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মূলধন থাকে, তাহলে সেই ব্যাংক সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে। মোট লভ্যাংশ দিতে পারবে ২৫ শতাংশ।
এ ধরনের ব্যাংক যদি ১১ দমমিক ৮৭ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে। মোট লভ্যাংশ দিতে পারবে ১৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা যাতে বাড়ে এবং পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা যাতে ভালো মুনাফা পায় সেই দিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়ে গত বছরের জারি করা নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এবারের নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণে ছাড় নিয়েছে তাদের লভ্যাংশ ঘোষণার জন্য আলাদা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ বিষয়ে সার্কুলারে বলা হয়, এ ধরনের ছাড় বাদ দিয়ে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে যেসব ব্যাংক ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বা এর বেশি মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে সেসব ব্যাংক ৬ শতাংশ নগদ ও মোট ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে।
প্রভিশনে ছাড় নেওয়া ব্যাংক ন্যূনতম ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হলে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে।
এক্ষেত্রে যেসব ব্যাংকের ন্যূনতম মূলধন ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে অনূর্ধ্ব ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ সেসব ব্যাংক নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না। সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে।
প্রভিশনে ছাড় নেওয়া ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে দেশে ৬১টি ব্যাংক থাকলেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মাত্র ৩০টি। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে কেবল বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের মূলধন পর্যাপ্ততার হার ২২ শতাংশ। অন্যান্য সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১০ শতাংশের নিচে।
এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার গড় হার ছিল ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার গড় হার ছিল ৩৩ শতাংশ ঋণাত্মক। বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার গড় হার ছিল ২৫ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বর শেষের মূলধন পর্যাপ্ততার তথ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা পরিদর্শন করে অনুমোদন না করা পর্যান্ত ব্যাংক লভ্যাংশ দেয় না।
