লালকেল্লায় হামলার ‘মূল হোতা’ অভিনেতা সিধু আটক

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:১৫ পিএম

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির লালকেল্লার হামলায় ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত দীপ সিধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, চলমান কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন পাঞ্জাবের এই অভিনেতা ও সমাজকর্মী। যদিও তাকে ‘বিজেপির চর’ আখ্যা দেন বিক্ষুব্ধ কৃষকদের একাংশ।

দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলের ডেপুটি কমিশনার সঞ্জীব কুমার যাদব বলেন, ‘‘দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল দীপ সিধুকে পাঞ্জাবের জিরাকপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে।”

প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্র্যাক্টর মিছিল করে বিক্ষোভকারীদের একটি দল পৌঁছে যায় লালকেল্লায়। সেখানে ভাঙচুরের পাশাপাশি পতাকাও ওড়ানো হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন দীপ। তার বিরুদ্ধে কৃষকদের খেপিয়ে তোলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর থেকেই ‘ফেরার’ ছিলেন দীপ। তবে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও আপলোড করে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন তিনি।

এ সময় দীপের অবস্থান বা গতিবিধি জানতে ১ লাখ রুপি পুরস্কারও ঘোষণা করে দিল্লি পুলিশ।

আইন নিয়ে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে স্বল্প সময়ের জন্য তা-ই পেশা করেছিলেন সিধু। এর পর মডেলিংয়ের দিকে ঝোঁকেন। ‘কিংফিশার মডেল হান্ট’ প্রতিযোগিতা জিতে অভিনয় জগতে পা রাখেন ২০১৫ সালে। সে বছর ‘রামতা যোগি’ নামে একটি পাঞ্জাবি ফিল্মে আত্মপ্রকাশ করেন। তবে ফিল্মি পর্দায় সাফল্য আসে বছর তিনেক পর। ২০১৮ সালে মুক্তি পায় ‘জোড়া ‘দশ নম্বরিয়া’। ওই পাঞ্জাবি ফিল্মে গ্যাংস্টারের চেহারায় সিধুকে দেখা যায় মুখ্য ভূমিকায়। এর পর তিনটি ছবিতে অভিনয় করেন। তবে ২০১৯ সাল থেকে রাজনীতির আঙিনায় সরব সিধু।

লালকেল্লার ওই ঘটনার পর থেকে থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সিধুর একের পর এক ছবি ও পোস্ট ঘুরতে থাকে। একটি ছবিতে দেখা যায়, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী তথা অভিনেতা সানি দেওলের প্রচারসঙ্গী হয়েছেন সিধু। অন্য একটি টুইটে সানি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশেও তিনি। আরেকটিতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রয়েছেন সিধুর পাশে।

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর দিল্লি-হরিয়ানা সীমানায় শম্ভু এলাকায় তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হন অনেক সমাজকর্মী-আন্দোলনকারী তথা শিল্পী। ওই বিক্ষোভে কৃষকদের সঙ্গে মাঠে নামেন সিধুও।

লালকেল্লায় পতাকা উত্তোলন করার পর নিজের পক্ষে সাফাই দেন দীপ। ফেইসবুকে একটি লাইভ ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেন, “নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রয়োগ করে লালকেল্লার কেবলমাত্র নিশান সাহিবের পতাকা (শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পতাকা) উত্তোলন করেছি আমরা। সেখান থেকে জাতীয় পতাকা সরানো হয়নি।”

তবে তখনই সিধুর ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন আন্দোলনকারী তথা স্বরাজ ইন্ডিয়ার প্রধান যোগেন্দ্র যাদব। তিনি বলেন, ‘‘দীপ সিধু মাইক হাতে কীভাবে লালকেল্লায় পৌঁছলেন, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।’’

এমনকি কৃষকদের র‌্যালি ঘিরে সহিংসতার ইন্ধনেরও অভিযোগ উঠেছে সিধুর বিরুদ্ধে। তার ভূমিকায় বিজেপি তথা আরএসএসের হাত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন কৃষক ইউনিয়নের নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত