ক্যানসারের ওপর বেশি করে গবেষণা দরকার : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৩:১২ এএম

দেশের পরিবেশ এবং জলবায়ুর সঙ্গে ক্যানসার কীভাবে বিস্তার লাভ করে সেজন্য গবেষণা দরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের দেশে গবেষণার সুযোগ খুবই কম। বিশেষ করে চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা খুব বেশি একটা হচ্ছে না। যেটা হওয়া একান্তভাবে প্রয়োজন। গতকাল রবিবার ‘কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স অ্যান্ড ক্যানসার রিসার্চ’ নামে নারায়ণগঞ্জে একটি ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যানসার এমন একটা রোগ এবং যেভাবে এর প্রাদুর্ভাব হচ্ছে তার সেভাবে ডায়াগনোসিস আমাদের দেশে হচ্ছে না। দেশের পরিবেশ এবং জলবায়ুর সঙ্গে এই ক্যানসার কীভাবে বিস্তার লাভ করে সেটার চিকিৎসার জন্য যে গবেষণা দরকার সেটা আমাদের দেশে খুব কমই হচ্ছে। ’৯৬ সালে সরকার গঠনের পর রিসার্চের জন্য অনেকগুলো ইনস্টিটিউট তৈরি করেও গিয়েছিলাম এবং পরে ক্ষমতায় এসে সেগুলোকে আরও উন্নত করার পাশাপাশি নতুন আরও ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। কারণ গবেষণা আমাদের জন্য একান্ত অপরিহার্য। ‘কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাযেন্স অ্যান্ড ক্যানসার রিসার্চ’ শীর্ষক এই সেন্টারটা যখন তৈরি হবে তখন এদেশে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ মানুষ আরও ভালোভাবে পাবে। কারণ দেশের সব মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশের চিকিৎসকরাও গবেষণায় খুব একটা সময় ব্যয় না করে রোগী দেখেই সময় কাটান। আসলে যাদের গবেষণা করার কথা সেসব চিকিৎসকরা রোগী দেখতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। কাজেই হাতেগোনা খুব কমজনেরই আমি দেখি তাদের পাবলিকেশন্স এবং রিসার্চ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালেই জাতির পিতা প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ শয্যার একটি করে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। চিকিৎসাসেবা জনগণের একদম দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই তার লক্ষ্য ছিল।’

করোনাকালে তার সরকারের গৃহীত উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস আসার পরেই ৭ দিনের মধ্যে আমরা ২ হাজার ডাক্তার, ৬ হাজার নার্স এবং টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়েছি এবং ভবিষ্যতে আরও নিয়োগের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য যা যা করা দরকার সরকার তা করে যাচ্ছে। আমাদের এই পদক্ষেপের ফলে আজ করোনাভাইরাস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ এ সময় প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহীতা কুমুদিনী হাসপাতালের সিনিয়র নার্স বেরোনিকা ডি কস্তাকেও তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এক সময় টিকা দেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও এখন আর কোনো সমস্যা নেই, সবাই আগ্রহ নিয়ে টিকা কেন্দ্রে আসছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বলে দিয়েছি ৪০ বছরের বেশি বয়সী সবাই টিকা পাবেন এবং আইডি কার্ড সঙ্গে নিয়ে গেলে তারা ফরম পাবেন এবং রেজিস্ট্রেশনও করতে পারবেন। গতকালও প্রায় এক লাখ ৯৪ হাজার মানুষ টিকা নিয়েছেন এবং আমরা ৩ কোটি টিকা কিনে রেখেছি। একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সবাইকেও আমরা টিকা দেব।’

তিনি আরও বলেন, জনগণ যাতে সেবা পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তার সরকার জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করেছে, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নার্সিং এবং মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন ২০১৬ ও সরকার প্রণয়ন করেছে। কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স অ্যান্ড ক্যানসার রিসার্চের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য খাত আরও একধাপ এগিয়ে গেল এবং বেসরকারি খাত আরও উৎসাহিত হবে এবং সবাই চাইবে যেন এ ধরনের সেবামূলক কাজ করতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত